ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, সরব রাহুল গান্ধী

ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণরা দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সংসদের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণার পর এর গতি আরও বেড়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিক্ষোভটি দিল্লির সীমানা ছাড়িয়ে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু এবং বিহারের পাটনার মতো বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, পাটনায় আন্দোলনকারী তরুণদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করেছে। এছাড়া গুজরাটের আহমেদাবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বেশ কয়েকজন সমর্থককে পুলিশ আটক করেছে। সিজেপির নেতৃত্বাধীন এই আন্দোলন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগের দিন আটক হওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি চেয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ছাত্রদের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তাদের সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, সরকার সংস্কারের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পরও বুধবার যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি দেখা গেছে। হরিয়ানা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া এক তরুণী অভিযোগ করেন, সরকার তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিচ্ছে।

আন্দোলনকারী এক তরুণ বলেন, প্রথমবারের মতো দেশের তরুণরা নিজেদের আওয়াজ তোলার সুযোগ পেয়েছে। পুলিশের মারধর ও বলপ্রয়োগের কারণে ভয় থাকলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন থেমে গেলে পুনরায় শুরু করা কঠিন হবে। ভারতে ভবিষ্যৎ কল্পনা করাও দুরূহ হয়ে পড়ছে এবং আওয়াজ তুললেই তা স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, পুরো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে রাজনৈতিক নেতাদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।