দখলকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অব্যাহত হামলার মধ্যে এক কিশোরসহ তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী নিহতদের মরদেহ নিজেদের কাছে আটকে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাফেয়ার্সের মাধ্যমে তারা এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২০ বছর বয়সী মাহমুদ হোসেন আবু সামরা এবং ১৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সামের ম্লেইতাত রয়েছেন। নাবলুসের পূর্বে বেইত ফুরিক শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তারা প্রাণ হারান। এছাড়া জেনিনের পূর্বে হাদাদ রাউন্ডঅ্যাবাউটের কাছে ২৪ বছর বয়সী আরও এক ফিলিস্তিনি যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিরাপত্তা বাহিনীর বরাতে জানিয়েছে, বেইত ফুরিক এলাকায় আরও অন্তত দুজন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বেইত ফুরিকের মেয়র ইউসেফ হানানি জানান, ইসরায়েলি সৈন্যরা শহরের সকল প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা যখন তাদের ফসলি জমির আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
মেয়র আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি সৈন্যরা এক ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করেছে এবং বাড়ির মালিককে মারধর করেছে। এছাড়া শহরের বিদ্যুৎ খুঁটিগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ইসরায়েলিরা দুটি ফিলিস্তিনি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বেইত ফুরিক সামরিক চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক বাসিন্দা তাদের বাড়িতে ফিরতে বা শহর ত্যাগ করতে পারছেন না।
এই হত্যাকাণ্ডের কিছুক্ষণ আগেই পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে গানিমি অবৈধ বসতির কাছে এক ইসরায়েলি সেনাকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টার অভিযোগে আরও এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফিলিস্তিনিদের আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ও তাদের সম্পদের ওপর হামলা তীব্র হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১,১৮৫ জন নিহত এবং ৩,৮১৬ জন আহত হয়েছেন।

