ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘ ২৭ দিন পর অনশন প্রত্যাহার করেছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ (জে পি) নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে তিনি অনশন ভাঙেন। এর আগে মোদির ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাসপাতালের শয্যায় বসেই অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ সময় তাঁর পাশে স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। অনশন ভাঙার পর উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
অনশন ভাঙার আগে রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য গভীর উদ্বেগ ও কষ্টের বিষয়। মোদি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সরকার এখানেই থেমে থাকতে চায় না। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় তোলা হবে এবং সংসদের চলতি অধিবেশনেই এ-সংক্রান্ত বিল পাসের চেষ্টা করা হবে। মোদির এই ঘোষণার পরই সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়াংচুকের উদ্দেশে শুভকামনা জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ওয়াংচুককে আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। তাঁর এই অনশন আন্দোলন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে নতুন গতি দিয়েছিল।

