লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের ক্যারিয়ার গড়লেও, তাঁর এই পথচলা সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আর্জেন্টিনার এই ফুটবল মহাতারকা চাইলে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারতেন। ইতালীয় গবেষক ফিওরেনজো সান্তিনির নেতৃত্বাধীন তিন বছরের এক নিবিড় গবেষণায় আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকার বংশলতিকা সম্পর্কে এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। গ্লোবোর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির মায়ের দিকের পূর্বপুরুষদের সূত্রে তাঁর ব্রাজিলের হয়ে খেলার আইনি সুযোগ ছিল।
গবেষক সান্তিনির তথ্যমতে, ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের মায়ের দিকের এক প্রপিতামহ বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ব্রাজিলের সাঁও পাওলোর অভ্যন্তরে অবস্থিত রিবেরাও প্রেতোতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯০৫ সালের দিকে এই পরিবারটি আর্জেন্টিনায় স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। এই অভিবাসনের মাধ্যমেই মূলত আর্জেন্টিনার সাথে কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের নাড়ির সম্পর্ক তৈরি হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে যে, পরিবারটি রোজারিওতে বসতি স্থাপনের পর তাদের পারিবারিক পদবিতে সামান্য পরিবর্তন আসে। মেসির মায়ের দিকের আসল পারিবারিক পদবি ছিল 'কোকসেত্তিনি', যা পরবর্তীতে সরকারি নথিপত্রে ভুলবশত 'কুচ্চিত্তিনি' হিসেবে নিবন্ধিত হয় এবং বর্তমানে মেসি এই পদবিই ব্যবহার করছেন।
মেসি নিজেকে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আলবিসেলেস্তেদের হয়ে তিনি একটি ফিফা বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা, একটি কোপা ফিনালিসিমা এবং একটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয় করেছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল করে তিনি দলটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে রয়েছেন। সম্প্রতি সমাপ্ত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন, যেখানে তিনি ৮টি ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন।
তবে শুধু ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনাই নয়, মেসি চাইলে স্পেন এবং ইতালির হয়েও আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলতে পারতেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সব শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। স্পেনের সাবেক কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক নিশ্চিত করেছেন যে, রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) এই তরুণকে স্পেনের হয়ে খেলার জন্য রাজি করানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মেসি তা প্রত্যাখ্যান করেন। দেল বস্ক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ফেডারেশন মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু লিওনেল তা প্রত্যাখ্যান করে কারণ সে নিজের দেশকে গভীরভাবে ভালোবাসে।
এছাড়া, উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপ থেকে দক্ষিণ আমেরিকায় ব্যাপক অভিবাসনের কারণে অনেক আর্জেন্টাইনের মতোই মেসিরও ইতালীয় বংশোদ্ভূত ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি চাইলে ইতালির হয়েও খেলার সুযোগ নিতে পারতেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের মাতৃভূমি আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন।

