ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিমে একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণে ১২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর টানেলের ভেতরে আটকে পড়া আরও ১৩ জন শ্রমিককে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালানো হলেও বিষাক্ত গ্যাসের কারণে উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
গত সোমবার হিমালয় অঞ্চলের ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার (২৫ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত এই টানেল থেকে এ পর্যন্ত ১২ জন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা অনুপমা তামলিং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার সরঞ্জাম এবং নাইট-ভিশন গিয়ার নিয়ে কাজ করলেও বিষাক্ত গ্যাস এবং টানেলের ভেতরে পানি জমে থাকার কারণে ভেতরে প্রবেশ করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিস্তা নদী অববাহিকা অঞ্চলটি ভূমিকম্প প্রবণ এবং এখানকার পাহাড়গুলো ভঙ্গুর শিলা দ্বারা গঠিত। মাটির নিচে থাকা ফাটল এবং পকেটে প্রাচীন গ্যাস আটকে থাকার কারণে এই অঞ্চলে টানেল নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভঙ্গুর পার্বত্য এলাকা, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং মাটির নিচের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এই ধরনের প্রকল্পকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।
ভারতে এই ধরনের টানেল বা খনি দুর্ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতিবেশী মেঘালয় রাজ্যের একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে একটি টানেল ধসে পড়ার পর ৪১ জন শ্রমিক দীর্ঘ ১৭ দিন আটকে ছিলেন, যাদের পরবর্তীতে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

