নিট প্রশ্নফাঁস: প্রতিবাদের নতুন অস্ত্র ফুটবলার আর্লিং হালান্ড

ভারতে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান বিক্ষোভে এবার যুক্ত হয়েছে এক অভিনব ইন্টারনেট ট্রেন্ড। জেন-জি আন্দোলনকারীরা বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ফুটবলার আর্লিং হালান্ডকে এই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ও কৌতুকশিল্পীদের একাংশ মজা করে বলছেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভাগ্য এখন নাকি নরওয়ের এই ফুটবল তারকার ওপর নির্ভর করছে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকা ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত দুই সপ্তাহে ইন্টারনেটে মজার ছলে ‘পিপলস প্রিন্সেস’ উপাধি পেয়েছেন। সেই মিম সংস্কৃতিকেই ব্যবহার করে তাকে এখন ভারতের শিক্ষা সংকটের ‘সমাধানকারী’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির নাম ব্যবহার করা একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে মজা করে পোস্ট করা হয়, ‘আমার নাম নরেন্দ্র মোদি। হালান্ড যদি এই পোস্টে রিপ্লাই দেয়, তবে আমি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করব।’

এই পোস্টটিতে দ্রুত হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়ে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘একটা দেশকে সাহায্য করো।’ অন্য একজন লেখেন, ‘সত্যি বলতে, হালান্ডের কমেন্ট করার সম্ভাবনা প্রধানের পদত্যাগ করার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি।’ কৌতুকশিল্পী অনির্বাণ দাশগুপ্তও এই মিমে যোগ দিয়ে লেখেন, ‘আর্লিং, এটাকে হেড করে গোল করো—এটাই হবে মৌসুমের সেরা গোল।’

সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়িয়ে এই ট্রেন্ডের প্রভাব পড়েছে রাস্তায় চলমান বিক্ষোভেও। মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হালান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ মেডিটেশন সেলিব্রেশন অনুকরণ করেন। মূলত, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মিম এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, ভারতের এই ‘প্রথম বড় জেন-জি আন্দোলন’ স্লোগান ও বক্তব্যের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল কনটেন্ট দিয়েও সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে।