যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধে নেপালে কর্মহীন এইড কর্মীরা এখন যৌনকর্মী

নেপালের হেতাউদা শহরের একটি অন্ধকার মহাসড়কের পাশে ট্রাকের হেডলাইটের আলোয় অপেক্ষমাণ রুবি লামা। এক সময় তিনি এই পথেই এইচআইভি সচেতনতা নিয়ে কাজ করতেন, অথচ আজ জীবন বাঁচাতে তাকেই এই পথে যৌনকর্মী হিসেবে নামতে হয়েছে। ট্রান্সজেন্ডার রুবি লামা নয় বছর ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা তহবিল বড় পরিসরে কমিয়ে ফেলার ফলে বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি এইড কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।

নেপালের রক্ষণশীল সমাজে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এমনিতেই সীমিত। তহবিল কাটার ফলে কেবল নেপালেই প্রায় ৩৫ হাজার এইড কর্মী বেকার হয়েছেন। রুবি লামার মতো অন্তত ১০০ জন এলজিবিটিকিউ+ এইড কর্মী এখন বেঁচে থাকার তাগিদে যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইউএসএইড-এর অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় এইচআইভি প্রতিরোধমূলক ওষুধ ও সেবা কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

এক সময় ফ্রেন্ডস হেতাউদা নামের যে এনজিও-তে রুবি লামা কাজ করতেন, সেখানে এখন ইউএসএইড-এর লোগোযুক্ত ল্যাপটপগুলো ধুলোবালিতে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইউএসএইড-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে এইচআইভি পরীক্ষা ও পরামর্শ সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্লু ডায়মন্ড সোসাইটির মতো সংস্থাগুলো, যারা নেপালে এইচআইভি আক্রান্তদের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ ও প্রিপ (PrEP) সেবা দিত, তারাও এখন বড় ধরনের সংকটে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মনীষা ঢাকাল জানান, তাদের ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ প্রাক্তন কর্মী এখন যৌন পেশায় কাজ করছেন।

এই পেশায় নামা প্রাক্তন কর্মীদের প্রায় সবাই নিয়মিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। রুবি লামা, সুজাতা চৌধুরী এবং বারশা মাগারের মতো কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা প্রায়ই ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে তারা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এক সময় তারাই এসব মানুষকে সচেতন করার কাজ করতেন।

নেপালের ন্যাশনাল সেন্টার ফর এইডস অ্যান্ড এসটিডি কন্ট্রোল-এর পরিচালক ড. সর্বেশ শর্মা সতর্ক করে বলেছেন, ভাইরাসের কোনো সীমান্ত নেই। এই সহায়তা বন্ধের ফলে কেবল নেপাল নয়, বিশ্বজুড়েই এইচআইভি সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। রুবি লামা এখন প্রতি রাতে পাঁচজন গ্রাহক থেকে যে আয় করেন, তা দিয়ে তার মাসিক খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিনি তার পরিচয় নিয়ে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে এমন এক পথে ঠেলে দিয়েছে যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ নেই।