মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই মাসের মধ্যে এই প্রথম তেলের দাম এত উচ্চতায় পৌঁছাল, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত বুধবার (২২ জুলাই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী জানায়, তারা সৌদি আরবের দুটি তেলের ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’র ওপর হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, লোহিত সাগরে তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ অমান্য করায় এই হামলা চালানো হয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে চালানো এই হামলায় একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি নতুন নয়। গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সে সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এপ্রিল মাসে সংঘাতের চূড়ান্ত পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠলেও মে মাসের শেষ দিকে তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা দিলে দাম ৭১ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় দাম আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

