নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ইরান থেকে সব কূটনীতিক সরিয়ে নিল ব্রিটেন

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরান থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সব কূটনীতিককে প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাজ্য। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের দূতাবাস দূর থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এর আগে চলতি বছরের জুন মাসে ব্রিটেন ইরান থেকে তাদের দূতাবাস কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছিল। একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—ইসরায়েলের এমন দাবির পর নতুন করে বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক প্রত্যাহারের ঘটনাগুলো ঘটে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসেও অনুরূপ পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে এবার কতজন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিডিও) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে ইরানে সব ধরনের ভ্রমণের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্রিটিশ নাগরিক বর্তমানে ইরানে অবস্থান করেন—সে তিনি বাসিন্দা বা দর্শনার্থী যেই হোন না কেন—সেখানে থাকা এবং এর ফলে উদ্ভূত ঝুঁকিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরানে বর্তমানে ব্রিটিশ নাগরিক ক্রেইগ ফোরম্যান এবং তার স্ত্রী লিন্ডসে আটক রয়েছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে মোটরসাইকেলে ইরান ভ্রমণের সময় তাদের আটক করা হয়। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যদিও তারা উভয়েই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার অপরাধে ক্রেইগ ফোরম্যানকে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।