২৫ অঙ্গরাজ্যের মামলা: ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্যোগ তহবিল আটকে রাখার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া যৌথভাবে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের নির্বাচন ও অভিবাসন নীতি চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা গ্রান্টের কোটি কোটি ডলারের তহবিল আটকে রাখছে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, এই তহবিল পাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ফেডারেল ডেটাবেজের মাধ্যমে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করা, হাতে চিহ্নিত কাগজের ব্যালটের দিকে অগ্রসর হওয়া, ফেডারেল সরকার নির্ধারিত নির্বাচনী নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করা এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে সহযোগিতা করা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গ্রান্ট প্রোগ্রামের অন্তত ২০ শতাংশ অর্থ আটকে রাখতে পারে ফেমা (FEMA)। বাদী রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ (১৪৮ মিলিয়ন) ডলার। এছাড়া, এসব শর্ত মেনে না চললে ভবিষ্যতে পুরো অনুদানই বাতিল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজ্যগুলোর দাবি, এই তহবিলের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এমন নীতি বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) অর্থকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

এছাড়া, প্রশাসনের পরিবর্তনশীল অগ্রাধিকার বা "জাতীয় স্বার্থ" অনুযায়ী ফেমা যেকোনো অনুদান বাতিল করতে পারবে—এমন নিয়মেরও বিরোধিতা করেছে রাজ্যগুলো। তাদের যুক্তি, এ ধরনের ক্ষমতার কারণে বহু বছরের জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল তহবিল অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে নির্বাহী বিভাগ।

এই মামলার অন্যতম নেতৃত্বদানকারী রোড আইল্যান্ডের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার এফ. নেরোনহা ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ শত কোটি ডলারের তহবিল বেআইনিভাবে আটকে রেখে জনগণের নিরাপাত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি ও মোকাবিলার জন্য কংগ্রেস অঙ্গরাজ্যগুলোকে এই অর্থ বরাদ্দ করেছে। এ বিষয়ে নির্বাহী বিভাগের কোনো আইনি এখতিয়ার নেই। ফেডারেল জরুরি তহবিলকে অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরুদ্ধে জিম্মি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।"

এদিকে, ফেমার একজন মুখপাত্র সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মামলার তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, "নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয় এবং রোড আইল্যান্ডের এই রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন কিছু নয়। আমরা জানতাম যে বামপন্থী রাজনীতিবিদরা নির্বাচন নিরাপত্তা এবং মার্কিন গণতন্ত্রের সততা রক্ষায় নেওয়া এসব বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের বিরোধিতা করবেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "চলতি বছর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গ্রান্টের সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়ার আগে অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্বাচন সুরক্ষায় কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই নতুন শর্তগুলো নির্বাচনের সততা বজায় রাখবে।"

রোড আইল্যান্ড ছাড়াও এই মামলায় যুক্ত হয়েছে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, ভার্মন্ট, ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন, উইসকনসিন এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা। এছাড়া কেনটাকি ও পেনসিলভেনিয়ার গভর্নররাও এতে অংশ নিয়েছেন।

বাদী রাজ্যগুলোর দাবি, ফেমা এবং ডিএইচএস-এর এই শর্ত আরোপ প্রশাসনিক পদ্ধতি আইন (Administrative Procedure Act) এবং সংবিধানের ব্যয় সংক্রান্ত ধারা (Spending Clause) লঙ্ঘন করে। রাজ্যগুলোর অ্যাটর্নি জেনারেলরা রোড আইল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারকের কাছে এই শর্তগুলো স্থগিত করার এবং দেশব্যাপী তা বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। একই সাথে সংস্থাগুলোকে দ্রুত তহবিল ছাড়ের নথিপত্র ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন তারা।