ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের দুটি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, এনসেলিয়া এবং লায়লা নামের এই দুটি ট্যাঙ্কারে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের এই হামলায় সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে এবং এর ফলে প্রায় ১০টি জাহাজ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
ইয়াহিয়া সারি আরও বলেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের এই সামুদ্রিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তারা 'ব্লকেড-ফর-ব্লকেড' বা অবরোধের পাল্টা অবরোধ নীতি বজায় রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনে যেকোনো হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি ভূখণ্ডের গভীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে।
এর আগে, ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) এজেন্সি জানিয়েছিল যে, সৌদি আরবের আল-শাকিক থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানলে একটি ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার তদন্ত করছে। পরবর্তীতে সৌদি আরবের ট্রান্সপোর্ট জেনারেল অথরিটি (TGA) নিশ্চিত করে যে, লোহিত সাগরে চলাচলরত এনসেলিয়া ট্যাঙ্কারটি হামলার শিকার হয়েছে এবং এর ফলে জাহাজটির সামনের অংশে আগুন লেগেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জাহাজের সব ক্রু নিরাপদ রয়েছেন এবং জাহাজ, নাবিক ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই আক্রমণকে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা রক্ষাকারী আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করা হয়েছে। সোমবার হুথিরা সৌদি আরবের দিকে সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট একটি 'দৃঢ় ও কঠোর' জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে।

