
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি মানুষের দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে বড় ভূমিকা রাখবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Ai)। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন।
জাকারবার্গ জানান, ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে ‘এআই এজেন্ট’ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত চাহিদা বুঝে সার্বক্ষণিক তাদের হয়ে কাজ করে দেবে।
বর্তমানে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজ দ্রুত সামলাতে বিভিন্ন ধরনের এআই টুলের ব্যবহার বাড়ছে। তবে মেটা প্রধান মনে করেন, এই গতি সামনে আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। নতুন প্রজন্মের এসব এআই এজেন্ট মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক বিনিয়োগ, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানাবিধ কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
এ প্রসঙ্গে জাকারবার্গ বলেন, “আমরা এমন এক নতুন যুগের দিকে ধাবিত হচ্ছি, যেখানে মানুষের যোগাযোগের একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে বিভিন্ন এআই এজেন্ট। এ ক্ষেত্রে মেটার মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ সহ অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
বিনিয়োগে রেকর্ড গড়ার পথে মেটা
প্রযুক্তির এই সম্ভাব্য রূপান্তরে বাজার ধরে রাখতে এআই খাতে অবকাঠামোগত ব্যয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় মেটার ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ ৭৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮.৫৫ বিলিয়ন ডলার। মূলত এআই প্রযুক্তির গবেষণায় বিপুল অর্থ ঢালার কারণেই এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাকরক’-এর সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বের কথা জানিয়েছে মেটা। টেক্সাসের এল পাসোতে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণ করতে যাচ্ছে তারা।
ভবিষ্যৎ বাজারের সমীকরণ তুলে ধরে জাকারবার্গ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, চিরাচরিত কম্পিউটার কিংবা হার্ডওয়্যার ডিভাইস বিক্রির চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘ইন্টেলিজেন্স’ বিক্রি করা বহুগুণ বেশি লাভজনক হতে যাচ্ছে। মেটা বর্তমানে যে ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট তৈরিতে জোর দিচ্ছে, তা-ই হবে আগামী দিনে তাদের মূল প্রযুক্তিপণ্য ও রাজস্ব আয়ের শক্ত ভিত্তি।
