
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে প্রবেশের সুযোগে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। পড়াশোনা শেষ করে সে দেশে কাজে যোগ দেওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর এক লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় এক কোটি বিশ লাখ টাকা) ফি ধার্যের এক বিতর্কিত প্রস্তাব বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গ্র্যাজুয়েটদের জন্য চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি করবে। পাশাপাশি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও বিদেশি তরুণদের চাকরিতে নেওয়ার আগ্রহ নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অনিশ্চয়তার মুখে ‘পোস্ট-স্টাডি’ ক্যারিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মূল আকর্ষণ থাকে পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাজের সুযোগ পাওয়া, যা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) নামে পরিচিত। এর মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে স্থায়ী কাজের ভিসা (এইচ-ওয়ানবি) বা স্পন্সরশিপের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
নতুন আলোচনায় আসা এই নীতি বাস্তবায়িত হলে উচ্চশিক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার যে স্বপ্ন কোটি তরুণ দেখেন, তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে এই ফি শিক্ষার্থী নাকি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে—তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। যদি নিয়োগদাতাদের এই ফি দিতে হয়, তবে তারা আন্তর্জাতিক গ্র্যাজুয়েটদের এড়িয়ে চলবেন। আর যদি শিক্ষার্থীদের কাঁধে এই বোঝা চাপে, তবে বিপুল পরিমাণ পড়ার খরচের পর বাড়তি এক লাখ ডলার জোগাড় করা বেশিরভাগের জন্যই অসম্ভব হয়ে পড়বে।
ব্যাকআপ পরিকল্পনা ও উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের করণীয়
বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত শুধু কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা ভিসা পাওয়ার মধ্য দিয়েই শেষ হয়ে যায় না। ডিগ্রি অর্জনের পর চাকরির বাজার কতটা টেকসই এবং ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত, সেটি বিবেচনা করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের খবরে মন ভেঙে না ফেলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবসম্মত বিকল্প বা ‘ব্যাকআপ ট্র্যাক’ প্রস্তুত রাখা উচিত:
- ক্যারিয়ার বাজেট ও পরিকল্পনা: শুধু টিউশন ফি ও থাকার খরচ নয়, পোস্ট-স্টাডি জব পাওয়ার সম্ভাব্য পথ ও নীতিগত কারণে হতে যাওয়া বাড়তি খরচের বিষয়টি আগে থেকেই হিসাবে রাখা প্রয়োজন।
- ওয়ার্ক পারমিট নীতি আপডেট রাখা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপিটি (OPT) ও স্টেম (STEM) ওপিটি সংক্রান্ত নতুন সব পলিসি ও আপডেটের ওপর নিয়মিত নজর রাখতে হবে।
- বিকল্প গন্তব্যের পথ খোলা রাখা: কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর একমুখী নির্ভরতা না রেখে কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো যেসব দেশে পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক পলিসি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল, সেগুলোকে বিকল্প বা ‘প্ল্যান-বি’ হিসেবে তালিকায় রাখা উচিত।
- গ্লোবাল স্কিল অর্জন: কেবল এক দেশের স্থানীয় বাজারের ওপর ভরসা না করে এমন সব দক্ষতা অর্জন করা দরকার, যা বিশ্বজুড়ে যেকোনো দেশে বা দূরশিক্ষণ/রিমোট জবের মাধ্যমে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এটি কি চূড়ান্ত নীতি?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখনো একটি খসড়া প্রস্তাবনা বা প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মার্কিন সরকারের চূড়ান্ত নীতি হিসেবে এটিকে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। এর আগেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর কড়াকড়ির বেশ কিছু পদক্ষেপ মার্কিন আদালতে আইনি বাধার মুখে আটকে গেছে।
তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যেকোনো দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার আগে একটি শক্ত বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘ব্যাকআপ’ সঙ্গে নিয়ে এগোনোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
