কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এবার দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার কয়েকটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জানিয়েছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার অ্যালকোহল, নির্দিষ্ট কিছু ডেইরি পণ্য এবং মোটরসাইকেল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না। হোয়াইট হাউসের দাবি, কানাডা মার্কিন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর। মার্কিন-কানাডা বাণিজ্য যুদ্ধের এই পরিস্থিতি ৫টি চার্টে ফুটে উঠেছে। গত মাসে হোয়াইট হাউস কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (১৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
ইউনিভার্সিটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলসের অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক স্কট ফ্রেঞ্চ জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ কানাডার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ডেইরি খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই কানাডার ডেইরি কোটা, নির্ধারিত মূল্য এবং আমদানির সীমাবদ্ধতাকে মার্কিন কৃষকদের জন্য অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করে আসছেন। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কানাডার নেতৃত্বের ওপর ট্রাম্পের দাবি মেনে নেওয়ার চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮৭ মিলিয়ন ডলারের অ্যালকোহল (যার মূল্য ৫০৭ মিলিয়ন পাউন্ড), ২৬৯ মিলিয়ন ডলারের ডেইরি পণ্য এবং ৯০ মিলিয়ন ডলারের মোটরসাইকেল রপ্তানি হয়েছিল। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউনের মতে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞাটি কানাডার মোট রপ্তানির মাত্র ০.২৫ শতাংশকে প্রভাবিত করবে। তবে বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ডেবোরা এলমস সতর্ক করে বলেছেন, এর প্রভাব কানাডীয় ব্যবসায়ীদের জন্য বেশ শক্তিশালী হতে পারে, যদিও প্রাথমিক হিসাবে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য যুদ্ধের এই উত্তেজনার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি ভিডিও বার্তায় স্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্তটি কানাডার জন্য ব্যয়বহুল হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, হাত গুটিয়ে বসে থাকার চেয়ে সক্রিয় হওয়া বেশি জরুরি। কানাডা ইতিমধ্যে মার্কিন স্টিল, পোশাক এবং আসবাবপত্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, যা মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে উভয় দেশের ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাণিজ্য ভারসাম্য ফেরাতে তিনি আরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন, যার মধ্যে কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এই টানাপড়েন কেবল শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; আগস্ট মাসে অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে 'লেক আমেরিকা' করার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।

