পাকিস্তানের দুর্গম ব্রড পিক পর্বতে এক ভয়াবহ তুষারধসে বিশ্বখ্যাত নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজাসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। টানা দুই দিনের অনুসন্ধান শেষে শনিবার আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলের ৮ হাজার ৫১ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তুষারধসের ঘটনা ঘটে।
নির্মল পুরজার নিজস্ব পর্বতারোহণ সংস্থা ‘এলিট এক্সপেড’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক বার্তায় জানায়, “অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা নিশ্চিত করছি যে ব্রড পিকে তুষারধসে নির্মল ‘নিমসদাই’ পুরজা প্রাণ হারিয়েছেন। অভিযানের অন্য সদস্যরাও কেউ বেঁচে নেই।”
নিহত ১০ জন পর্বতারোহীর মধ্যে ৬ জন নেপালের নাগরিক। বাকিরা পাকিস্তান, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অধিবাসী বলে জানা গেছে।
মরদেহ উদ্ধারে জটিলতা
পাকিস্তানের পর্যটন বিভাগের উপপরিচালক সাজিদ হোসেন জানান, ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থল ও নিখোঁজ পর্বতারোহীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্থানটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকারীদের পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও বাকিদের উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে।
নেপালের পর্বতারোহণ সংস্থা ‘সেভেন সামিট ট্রেক্স’-এর পরিচালক ছাং দাওয়া শেরপা জানান, পাকিস্তানের পর্বতগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ দড়ি (লং-লাইন) ঝুলিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থা নেই। ফলে উদ্ধারকারীদের সুরক্ষার কথা ভেবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শোক
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “পর্বতারোহীদের শারীরিক যাত্রা থেমে গেল, কিন্তু তাঁদের সাহস ও অবদানের ইতিহাস চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।” যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও নির্মল পুরজার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
কে এই নির্মল পুরজা?
৪৩ বছর বয়সী নির্মল পুরজা একসময় ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী গোর্খা রেজিমেন্ট এবং বিশেষ বাহিনীতে (স্পেশাল ফোর্সেস) কাজ করেছিলেন। ২০১৯ সালে মাত্র ছয় মাসে বিশ্বের ৮ হাজার মিটারের উঁচু ১৪টি পর্বতচূড়া জয় করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।
পরবর্তী সময়ে তাঁর এই অবিশ্বাস্য অভিযাত্রার গল্প নিয়ে তৈরি করা হয় নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় তথ্যচিত্র “১৪ পিকস: নাথিং ইজ ইম্পসিবল”, যা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
