অসাবধানতাবশত পড়ে যাওয়া বা হোঁচট খাওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই বিব্রতকর একটি ঘটনা। তবে বারবার পড়ে যাওয়া কেবল শারীরিক আঘাত নয়, বরং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও গুরুতর দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়া মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ, অকুপেশনাল থেরাপি এবং সোশ্যাল ওয়ার্কের অধ্যাপক সুসান স্টার্কের মতে, পড়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণত ব্যক্তি, তার কাজ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ—এই তিনটির মিথস্ক্রিয়ার ফলে ঘটে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মাংসপেশির শক্তি ও ভারসাম্য কমে যাওয়া, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, পারকিনসন রোগ, ডিমেনশিয়া বা পায়ের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক অসুস্থতা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, ঝিমুনি বা মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন ওষুধ সেবন এবং অপর্যাপ্ত পুষ্টিও এর জন্য দায়ী হতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজ যেমন—মই বেয়ে ওঠা, তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামা বা ভারসাম্যহীন অবস্থায় উঁচুতে হাত বাড়ানো বিপদ ডেকে আনতে পারে। এছাড়া বাড়ির ভেতর অগোছালো পরিবেশ, পিচ্ছিল মেঝে, আলোর স্বল্পতা, পোষা প্রাণী বা সিঁড়িতে হাতল না থাকার মতো বিষয়গুলো ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিরা, যারা আগে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন অথবা যারা একাকীত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম ৬৫ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পড়ে যাওয়ার হার ২৩ শতাংশ কমিয়ে দেয়। সাধারণ ভারসাম্য ও শক্তির ব্যায়াম আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দারুণ কার্যকর। তবে কেবল হাঁটা যথেষ্ট নয়, কারণ এটি ভারসাম্য ও শক্তি বাড়াতে সেভাবে সাহায্য করে না।
ঘরোয়া পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে আলগা কার্পেট বা বৈদ্যুতিক তার সরিয়ে ফেলা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা, সিঁড়িতে মজবুত হাতল এবং বাথরুমে গ্র্যাব বার লাগানো। জুতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি; সবসময় কম হিল ও পিচ্ছিল নয় এমন সোলযুক্ত জুতা পরা উচিত। এছাড়া নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত সেবন করা সব ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট চিকিৎসকের মাধ্যমে পর্যালোচনা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে কি না তা বুঝতে তিনটি প্রশ্ন নিজেকে করা যেতে পারে: আপনি কি গত এক বছরে পড়ে গিয়েছেন? দাঁড়িয়ে থাকার সময় বা হাঁটার সময় কি আপনি ভারসাম্যহীন বোধ করেন? এবং আপনি কি পড়ে যাওয়ার ভয়ে থাকেন? এর মধ্যে যেকোনো একটির উত্তর 'হ্যাঁ' হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

