যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তাতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি এখন স্পষ্ট। রোববার প্রকাশিত ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিক্স’ পডকাস্টের কিছু অংশে তিনি বলেন, জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি তার উপদেষ্টাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ওই গণভোটে রাশিয়া কোনো হস্তক্ষেপ করেছিল কি না। পডকাস্টের পুরো পর্বটি সোমবার প্রচার হওয়ার কথা রয়েছে।
বার্নহাম বলেন, তিনি উপদেষ্টাদের কাছ থেকে নিশ্চিত উত্তর পেয়েছেন যে, হ্যাঁ, সেখানে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল। তিনি আরও বলেন, এই বিষয়গুলো এখন নথিবদ্ধ করা গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এটি জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটারদের বুঝতে সাহায্য করবে যে, তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কিছু বিষয় আমাদের শত্রুপক্ষ, অর্থাৎ রাশিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। রাশিয়া অবশ্য বরাবরই অন্য দেশের নির্বাচন বা গণভোটে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্রিটেনের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপের হুমকি নিয়ে সতর্ক করার প্রেক্ষাপটে বার্নহাম এই মন্তব্য করলেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ব্রেক্সিট ভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কথা স্বীকার করলেন।
বার্নহাম জানান, গত সপ্তাহে বার্লিনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সাথে বৈঠকের সময় তিনি রাশিয়া এবং জার্মানির অতি-ডানপন্থী দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি)-এর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন। বার্নহামের ভাষ্যমতে, জার্মান চ্যান্সেলর তাকে বলেছিলেন যে, এএফডি-এর সাথে রাশিয়ার স্পষ্ট যোগাযোগ রয়েছে এবং সম্ভবত তাদের অর্থায়নও করা হচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়া থেকে জার্মান রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পার্লামেন্টের ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, ইইউ গণভোটে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও ‘ট্রোল’ অ্যাকাউন্টগুলোর প্রভাব কতটা ছিল, তা সরকার পুরোপুরি মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

