২০২২ সালে আইডাহোর চার শিক্ষার্থীকে হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ৩০ বছর বয়সী ব্রায়ান কোহবার্গ তার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় ও সাজার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। গত ২৬ জুলাই আইডাহোর আডা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তিনি 'পোস্ট-কনভিকশন রিলিফ' বা সাজার পর প্রতিকার চেয়ে একটি পিটিশন দাখিল করেন। বর্তমানে তিনি নিজেই নিজের আইনি প্রতিনিধিত্ব করছেন।
কোহবার্গ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, তিনি নির্দোষ এবং তাকে বিভ্রান্ত করে দোষ স্বীকার করানো হয়েছিল। তিনি বলেন, 'একটি ত্রুটিপূর্ণ আবেদনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াটি শেষ হয়েছে, যা জনমনে কোনো স্পষ্টতা বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। আমার প্রকৃত নির্দোষতা আমার সত্য এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে করা সেই দোষ স্বীকারোক্তি অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।' তিনি তদন্তকারীদের বর্ণনাকে কাল্পনিক এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর আইডাহোর মস্কোতে একটি ভাড়াবাসায় ম্যাডিসন মোগেন (২১), কাইলি গনকালভেস (২১), জানা কার্নোডল (২০) এবং ইথান চ্যাপিন (২০)-কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। তাকে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া ৪টি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বার্গলারির জন্য ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন তদন্তে ঘটনাস্থলে থাকা ছুরির খোল থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ, মোবাইল ফোন ডেটা এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে কোহবার্গকে শনাক্ত করা হয়।
আইডাহোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল ল্যাব্রাডর এই আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, তার কার্যালয় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'গল্পটিতে নতুন কিছু নেই, কেবল একজন দোষী ব্যক্তি আবারও নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। কোহবার্গের বিবৃতিতে কোথাও এমন কোনো ইঙ্গিত নেই যে তিনি ৪ জন ভুক্তভোগীকে হত্যার কথা জেনে-বুঝে, স্বেচ্ছায় এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বীকার করেননি।' পরিবারটি আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং তাদের কাছে থাকা প্রমাণের ওপর তারা পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে।
