ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ১৫ পাতার একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পোস্টে তিনি তার সমালোচকদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। “দুঃখিত যে ম্যাচগুলো শেষ হয়ে গেছে এবং দুঃখিত যে আপনারা সেই আনন্দ ও সংহতি মিস করেছেন। দুঃখিত যে আপনারা ঘৃণা ও সমালোচনায় এতটাই মগ্ন ছিলেন যে আপনারা সবটাই মিস করেছেন,” reportedly ৫৬ বছর বয়সী এই ফিফা প্রধান গতকাল পোস্ট করেছেন। তিনি দাবি করেন, সমালোচকরা যখন পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ছড়াচ্ছিলেন, তখন ফিফা বিশ্বজুড়ে সেরা আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য মাঠে কাজ করে যাচ্ছিল।
ফিফা সভাপতির এই মন্তব্যের ধরন দেখে অনেকেই এটিকে তার ব্যক্তিত্বের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। লুমিনেট-এর ১৬ পাতার একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমান যুগে সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকা বা পোস্ট করা এখন এক নতুন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, যারা ঘৃণা ছড়াচ্ছেন তারা যেন সময় নিয়ে ধ্যান করেন বা অন্তত একটি ফুটবল ম্যাচ দেখেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইনফান্তিনো নিজেকে সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক ক্রীড়া প্রশাসনের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ইনফান্তিনোর এই কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ৩৯ জন সদস্য ফিফা সভাপতির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়ে একটি তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে যে, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনকে খেলানোর ক্ষেত্রে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ মেনে নিয়েছিলেন, যদিও ফিফা সভাপতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইনফান্তিনো এখন নিজেকে কেবল একজন ফুটবল প্রশাসক হিসেবে নয়, বরং একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। বর্তমান যুগে অনেক কোম্পানির প্রধানই ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকছেন। ইনফান্তিনো নিজেও সেই পথ অনুসরণ করছেন। এর আগে কাতার বিশ্বকাপের সময়ও তিনি নিজেকে সর্বেসর্বা হিসেবে উপস্থাপন করে বলেছিলেন, 'সবকিছুর জন্য আমাকে দায়ী করুন, ফিফাকে নয়।'
তার সাম্প্রতিক পোস্টে ইনফান্তিনো দাবি করেছেন যে, ফিফা দুটি যুদ্ধরত দেশকে একত্রিত করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। এই দাবিটি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। সমালোচকদের মতে, তিনি নিজেই নিজেকে ফিফা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা অনেকটা লুই চতুর্দশের 'ল্যাতা সে ময়া' (আমিই রাষ্ট্র) উক্তির মতো। ফুটবল বিশ্বের মালিকরা ৯০ মিনিটের ম্যাচগুলোকে এখন কেবল একটি অংশ হিসেবে দেখছেন, যা ১০০ শতাংশ মনোযোগের বদলে ব্র্যান্ডিংয়ের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম হন।

