কানাডার ডোরিয়া অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ঘাসের মাঠ দিয়ে আট চাকার এটিভিতে চড়ে টহল দেওয়ার সময় মাউন্টী পুলিশের রেডিওতে ভেসে এলো খবর: নিউ ইয়র্ক সীমান্ত পেরিয়ে একদল অভিবাসী বড় একটি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। কানাডার রয়্যাল মাউন্টী পুলিশ (আরসিএমপি) কর্মকর্তা কর্পোরাল স্যামুয়েল পেরল্ট-ম্যাগনি ও তার দল সেখানে উপস্থিত হয়ে মানবিক ও কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পেরল্ট-ম্যাগনি বলেন, যারা এখানে আসছে তারা উন্নত জীবনের আশায় আসছে। পুলিশ হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হয়, কিন্তু তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিও কাজ করে। ইউনিফর্মের আড়ালে আমরাও মানুষ।
কানাডার এই সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিপরীতে কানাডার মাউন্টীরা শরীরে বডি ক্যামেরা ও আইডি কার্ড ব্যবহার করলেও কোনো মুখোশ ব্যবহার করেন না। কানাডার কুইবেক অঞ্চলে অভিবাসীদের গুলি করার কোনো রেকর্ড নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, ২০০০ সাল থেকে কানাডার অভিবাসন আটক কেন্দ্রে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই হেফাজতে অন্তত ৫৩ জন মারা গেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কানাডা তাদের ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে মাউন্টীদের দাবি, দেয়াল বা বন্দুকধারী প্রহরী না থাকলেও তারা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ লাখ অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলেও গত বছর তা কমে ৮৫,৭৪৬-এ নেমে আসে। গত মাসে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের এই দুর্গম এলাকায় চোরাকারবারিরা মাদক ও অস্ত্র পাচারের চেষ্টা করে। মাউন্টীরা মূলত চোরাকারবারিদের গ্রেফতারকে অগ্রাধিকার দেয়। পেরল্ট-ম্যাগনি জানান, অনেক সময় অভিবাসীরা তাদের টহল গাড়িকে পাচারকারীদের গাড়ি মনে করে ভুল করে। দুর্গম বনাঞ্চল ও সেন্ট লরেন্স নদীর ওপর দিয়ে পাচারকারীরা নিয়মিত যাতায়াত করে, যেখানে গত বছর একটি রোমানিয়ান পরিবার নৌকা ডুবে মারা যায়।
২০২৩ সালের কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি অনুযায়ী, অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায়ই আগের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের মানবাধিকার নিয়মিত লঙ্ঘিত হচ্ছে। কানাডার মাউন্টীরা জানান, তারা অভিবাসীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করলেও অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। আইন মেনে কানাডায় আসার পথ খোলা রয়েছে, কিন্তু বনের ভেতর দিয়ে বা পানির পথে আসাটা কোনোভাবেই বৈধ উপায় নয়।

