যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান হিসেবে জয় ক্লেটনের নিয়োগ নিশ্চিত করেছেন সিনেটররা। সম্প্রতি ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্লেটনকে এই পদে মনোনীত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে রিপাবলিকানরা দ্রুত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করেন।
সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুন সোমবার সিনেট ফ্লোরে বলেন, তিনি আশা করেন এই নিয়োগের ফলে তার সহকর্মীরা ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্ট বা ফিসা (FISA) পুনর্বহালের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া বন্ধ করবেন। উল্লেখ্য, জুনের মাঝামাঝিতে এই আইনের ধারা ৭০২ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ট্রাম্প ক্লেটনের নাম ঘোষণা করেছিলেন। তবে জুলাই মাসে তার নিশ্চিতকরণ শুনানির ঠিক আগে ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে রিপাবলিকানরা কিছুটা অবাক হয়েছিলেন।
গত ১৫ জুলাই সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে হাজির হয়ে জয় ক্লেটন তার বক্তব্যের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েন। তিনি সরাসরি ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বারবার কেবল বাইডেনকে ‘সার্টিফায়েড’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিহিত করেন। এতে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ হন।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য মার্ক ওয়ার্নার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ক্লেটনের এখন দায়িত্ব হলো গোয়েন্দা তথ্যকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া। তিনি আরও বলেন, ক্লেটনের মনোনয়ন নিয়ে শুরুতে আশাবাদী থাকলেও, নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়ার পর তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে আমার গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি তিনি গোয়েন্দা সংস্থাকে গত কয়েক মাসের তুলনায় আরও স্থিতিশীল নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে, ক্লেটনের নিয়োগ নিশ্চিত হলেও গোয়েন্দা নজরদারি সংক্রান্ত আইনটি পুনরায় চালু হতে আরও সময় লাগতে পারে। সিনেট আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সচল থাকলেও ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে অধিবেশন বসার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদ বর্তমানে পাঁচ সপ্তাহের ছুটিতে রয়েছে এবং ৩১ আগস্ট তাদের ওয়াশিংটনে ফেরার কথা রয়েছে।

