বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরটি দলের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এবং সম্মান অর্জনের একটি বড় সুযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন, ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিত ম্যাচ খেলার আরও সুযোগ তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ।
দলের অন্যতম প্রধান বোলার নাহিদ রানা এবং ইনজুরির কারণে লিটন কুমার দাস ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতি নিয়ে চিন্তিত নন শান্ত। তিনি বলেন, ইনজুরি যেকোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই হতে পারে এবং এটি কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। শান্তর মতে, যারা দলে আছেন তারা অভিজ্ঞ এবং তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি মনে করেন, এটি নতুনদের জন্য নিজেদের মেলে ধরার দারুণ সুযোগ।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং আক্রমণ তাদের আছে বলে শান্ত আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজের মতো অভিজ্ঞ স্পিনাররা দলের বড় শক্তি। তিনি জানান, মুশফিকুর রহিম ছাড়া দলের বাকি পেসাররাও দীর্ঘ সময় ধরে খেলছেন, ফলে তাদের কাছ থেকে সেরাটা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ায় গত ২৩ বছরে খুব কম ম্যাচ খেলার আক্ষেপের কথা জানিয়ে শান্ত বলেন, ভালো ক্রিকেট খেলতে পারলে ভবিষ্যতে আমন্ত্রণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। দলের লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। শান্তর মতে, টেস্ট দল বর্তমানে ভালো অবস্থানে আছে এবং এই অবস্থান থেকে পিছিয়ে না গিয়ে উন্নতির ধারা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি কিছুটা ব্যাহত হলেও কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিনায়ক। তিনি জানান, দলের অ্যানালিস্ট কন্ডিশন সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সৌম্য সরকারের অভিজ্ঞতা এবং বাউন্সি উইকেটে খেলার সক্ষমতা দলের জন্য কাজে আসবে বলেও তিনি মনে করেন। এছাড়া, দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকার বিষয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ দল ৩১ জুলাই অস্ট্রেলিয়া রওনা হবে। সেখানে ৬-৮ আগস্ট ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৩-১৭ আগস্ট ডারউইনে এবং ২২-২৬ আগস্ট ম্যাকাইয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে দুটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

