প্রায় ২১ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া মাহমুদ আতাআল্লাহ আল-দ্রিমলি নামের এক ফিলিস্তিনি যুবককে ইনস্টাগ্রামে ইসরায়েলি এক সেনার পোস্ট করা ছবিতে শনাক্ত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর এটিই তার বেঁচে থাকার প্রথম প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী মাহমুদকে ওই ছবিতে দুই নারী ইসরায়েলি সেনার মাঝখানে হাতকড়া পরা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে।
ছবিটি মাহমুদ জীবিত থাকার প্রমাণ দিলেও, তার বর্তমান অবস্থান, শারীরিক অবস্থা এবং আইনি মর্যাদা নিয়ে পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাহমুদ ২ নভেম্বর ২০২৪ সালে গাজা সিটিতে ফেরার পথে নেতজারিম করিডোর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। সেই সময় এলাকাটি ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মাহমুদের মা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, এর আগে রেড ক্রসের কাছে খোঁজ নিয়েও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, 'ছবিটি দেখে আমি স্বস্তি পেয়েছি কারণ আমি নিশ্চিত হয়েছি যে সে বেঁচে আছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমার সন্তানকে চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।' তিনি ছবি প্রকাশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই ছবিগুলো তার ছেলেকে অপমান করছে না, বরং যারা এগুলো তুলেছে ও প্রকাশ করেছে তাদেরই অপমানিত করছে।
মাহমুদের ভাই আহমেদ এই ছবিটিকে প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর 'আশার আলো' বলে অভিহিত করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কাছে মাহমুদ কোথায় আছেন তা উদ্ঘাটনের আবেদন জানিয়েছেন। প্যালেস্টাইন প্রিজনার্স ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৯,৪০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হেফাজতে বন্দী ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাজার শত শত বন্দীর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো অজানা, কারণ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের আটকস্থল বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না।

