লর্ডসে লন্ডন স্পিরিটকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে নিজেদের এলিমিনেটরের আশা বাঁচিয়ে রাখল সাউদার্ন ব্রাভ। জোফরা আর্চার এবং মার্কাস স্টইনিসের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবসের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে এই নাটকীয় জয় তুলে নেয় দলটি।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লন্ডন স্পিরিট শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালান জনি বেয়ারস্টো। ৪০ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ইনিংসের মাঝপথে, অর্থাৎ ৫০ বল শেষে স্পিরিটের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫২ রান। এই ম্যাচেই লিয়াম লিভিংস্টোনকে আউট করে আদিল রশিদ পুরুষদের দ্য হান্ড্রেডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার হিসেবে টাইমাল মিলসকে ছাড়িয়ে যান।
বেয়ারস্টো আউট হতেই লন্ডন স্পিরিটের ইনিংসে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। ১০৩ রানে ৫ উইকেট থেকে মাত্র ২ রান যোগ করতেই ১০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ইনিংসের ৮ বল বাকি থাকতেই শেষ ৫টি উইকেট হারায় স্পিরিট। সাউদার্ন ব্রাভের হয়ে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন জোফরা আর্চার। এছাড়া মার্কাস স্টইনিস ১৭ রান খরচায় শিকার করেন ৩টি উইকেট।
১০৬ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাউদার্ন ব্রাভও শুরুতেই ধাক্কা খায়। ডেভিড উইলি প্রথম বলেই বেন ম্যাককিনিকে শূন্য রানে ফেরানোর পর নিখিল চৌধুরীকেও আউট করেন। তবে জেমি স্মিথ পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে একটি বিশাল ছক্কাসহ ৩৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। জেমস কোলসের বলে স্মিথ এলবিডব্লিউ হলে ম্যাচ জমে ওঠে। ইনজুরিতে পড়া থমাস রিউয়ের জায়গায় খেলতে নামা মঈন আলীকে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান অ্যাডাম জাম্পা। এরপর স্টইনিস নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে রানআউট হলে ৬০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ব্রাভ। তখনো জয়ের জন্য ৪৮ বলে ৪৬ রান প্রয়োজন ছিল।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সাউদার্ন ব্রাভকে উদ্ধার করেন দুই প্রোটিয়া ব্যাটার ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস। ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ৩ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে ব্রাভ। ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন মিলার। এই জয়ে সাউদার্ন ব্রাভ এলিমিনেটরের দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রইল, অন্যদিকে লন্ডন স্পিরিটের নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা বড় ধাক্কা খেল।

