খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দেশে কোনোভাবেই ফ্যাসিজমের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। ফ্যাসিস্টদের দমনে পুলিশ বাহিনী ভবিষ্যতে আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান।
ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগামী ৫ আগস্ট ও ১৫ আগস্টকে ঘিরে জনমনে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে গুজব ছড়ানো রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সঠিক তথ্য গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করে মানুষের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে বলে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মাদকের বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ডিআইজি বলেন, এই নীতি বাস্তবায়নে পুলিশ পুরোপুরি প্রস্তুত। মাদকের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে চাকরিচ্যুত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুলিশ বাহিনী নেবে না এবং মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ডাকাতি ও দস্যুতা কঠোরভাবে দমনের জন্য পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে—এমন কর্মকর্তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হবে। এছাড়া নারীদের ওপর সহিংসতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পুলিশ বিভিন্ন সম্প্রীতিমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন, মুশফিকুর রহমান, মাহফুজ হোসেন ও শৈলকূপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আখতারুজ্জামানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

