পুরুষদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ক্রিকেট স্কটল্যান্ড এবং রয়্যাল ডাচ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (কেএনসিবি)। এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড এই পরিবর্তনকে সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফরম্যাটে আনা পরিবর্তন এবং এর পেছনে থাকা প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে সহযোগী দেশগুলো আইসিসির সঙ্গে দুই দফায় বৈঠকে বসেছিল। এ বিষয়ে তারা আইসিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক লিখিত ব্যাখ্যাও চেয়েছিল। তবে দ্বিতীয় বৈঠকের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আইসিসির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণকে "হতাশাজনক" এবং "অসম্মানজনক" বলে আখ্যা দিয়েছে বোর্ড দুটি।
সহযোগী দেশগুলোর দাবি, নতুন এই ফরম্যাট বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা ব্যাহত করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, এমন এক সময়ে যখন ক্রিকেট নিজের পরিধি বাড়াতে, নতুন দর্শক টানতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে, তখন উদীয়মান দেশগুলোর জন্য অর্থবহ সুযোগ কমিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ ভুল বার্তা পাঠায়। বিশেষ করে সহযোগী দেশগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে তারা মনে করে।
আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা সংকটে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সদস্য দেশ এবং তাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপের জন্য বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেন। বাছাই পর্বের একটি চক্রের মাঝামাঝি সময়ে কোনো আলোচনা ছাড়াই যদি কাঠামো বদলে ফেলা হয়, তবে তা গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করে। এটি দলগুলোর পরিকল্পনাকে ব্যাহত করার পাশাপাশি সীমিত সম্পদের ওপর পরিচালিত সহযোগী বোর্ডগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক ও পরিচালনাগত চাপ সৃষ্টি করে।
গত মাসে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৪ করার ঘোষণা দেয়। তবে নতুন এই ফরম্যাটে রাখা হয়েছে চারটি রাউন্ড, যেখানে মূল গ্রুপ পর্বের আগে একটি রাউন্ড-রবিন "সুপার সিরিজ" অনুষ্ঠিত হবে। টুর্নামেন্টের ১২, ১৩ এবং ১৪ নম্বর দলের মধ্যে দুটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে এবং একটি দল শুরুতেই বিদায় নেবে।
নেদারল্যান্ডস এবং স্কটল্যান্ড উভয় দলই ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যার ভেন্যু এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছরের অক্টোবরে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যার আর মাত্র ১৮ মাসেরও কম সময় বাকি। এত কম সময়ের মধ্যে এই পরিবর্তন সহযোগী দেশগুলোর জন্য মানিয়ে নেওয়া কঠিন করে তুলেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হলে আরও কার্যকর ও সহযোগিতামূলক একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো, যা বিশ্বকাপ বাছাই প্রক্রিয়ার ওপর দলগুলোর আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করত।

