প্রায় ১৪ বছর আগে তাসকিন আহমেদ প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে ট্রাভিস হেডকে আউট করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সেই হেডকে বিপক্ষেই পাচ্ছেন তিনি, তবে এবার ডারউইনের টেস্ট ম্যাচে। ২৩ বছরের অপেক্ষার পর বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া এই টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে তাসকিন বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এসে তাদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে পারাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। নিঃসন্দেহে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তাদের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেট খেলা প্রতিটি খেলোয়াড়ের জন্যই গর্বের মুহূর্ত। সিরিজটি সহজ হবে না জেনেও ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী তাসকিন।
তাসকিনের কণ্ঠে ছিল অস্ট্রেলিয়া নিয়ে এক ধরনের শৈশবী আবেগ। ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন। কিন্তু ১২ বছর আগে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়নি তার। ২০০৩ সালে যখন বাংলাদেশ শেষবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলেছিল, তখন তাসকিনের বয়স ছিল মাত্র আট বছর। তখন থেকেই তিনি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলারদের দেখে বড় হয়েছেন।
তাসকিন আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার এবং কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের দেখে বড় হয়েছি। এখন তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছি, যা আমাকে দারুণভাবে রোমাঞ্চিত করছে। বোলিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়া আমার প্রিয় জায়গা। স্টার্ক, হ্যাজলউড, কামিন্স এমনকি বোল্যান্ডের মতো বোলারদের আমি নিয়মিত অনুসরণ করি। সুযোগ পেলে তাদের সাথে কথা বলতে চাই।
বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব কম পাওয়া। তবে দেশের মাটিতে পিচের পরিবর্তনের ফলে তারা আত্মবিশ্বাসী। দুই মাস আগে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারানো বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। যদিও সেই সিরিজে স্টার্ক, হ্যাজলউড, কামিন্স বা হেড ছিলেন না। ডারউইনের এই সিরিজে নাহিদ রানা, মোস্তাফিজুর রহমান এবং শরিফুল ইসলামের মতো বোলারদের সহায়তা না পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঘাটতি, তবে শরিফুলের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডারউইনে শনিবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হারের বিষয়টি স্বীকার করে তাসকিন জানান, সেটি খুব একটা ভালো অনুভূতি ছিল না। তবে ক্রিকেটে এমনটা ঘটে। আমরা কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও মূল ম্যাচে ভালো করার আশা রাখছেন তিনি। অন্যদিকে, ট্রাভিস হেড প্রস্তুতি ম্যাচের ফলাফল নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না। তিনি মনে করেন, প্রস্তুতি ম্যাচের চেয়ে মূল টেস্টের দিকেই সবার মনোযোগ বেশি।
উল্লেখ্য যে, ২২ বছর বয়সী সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন প্রস্তুতি ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়েছিলেন। তার বোলিং তোপে বাংলাদেশ মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে পরাজিত হয়।
