কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছুঁইছুঁই

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৯৯৯ জনে পৌঁছেছে। বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এই ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এটিকে ইতিহাসের দ্রুততম ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুনডিবুগিও (Bundibugyo) ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। ২০১৩-২০১৬ সালের ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, তবে সেই তুলনায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি অনেক দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে। আগের ওই প্রাদুর্ভাবে ১০০০ জনের মৃত্যু হতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল।

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা রক্ত, বমি বা বীর্যের মতো শারীরিক তরলের সংস্পর্শে ছড়ায়। ইতুরিসহ পাঁচটি প্রদেশে এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ৮০ শতাংশ নতুন সংক্রমণের উৎস অজানা, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইতুরির সিভিল প্রোটেকশন প্রধান রবার্ট এনডজালঙ্গা জানান, কিছু এলাকায় স্থানীয়রা ইবোলা মোকাবিলাকারী টিমের কাজে বাধা দিচ্ছে। বিশেষ করে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফন প্রক্রিয়ার সময় অনেক পরিবার ঐতিহ্যবাহী দাফন পদ্ধতি দাবি করে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাফন দলগুলোকে প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা নিতে হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা এবং বেতন না পাওয়ার অভিযোগে ধর্মঘটের কারণে অনেক জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-এর মহাপরিচালক ড. জ্যঁ কাসেয়া ঘানায় আয়োজিত এক সম্মেলনে সতর্ক করে বলেছেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিণত হতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৯ শতাংশকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে একেবারেই অপর্যাপ্ত। এছাড়া ৬০ শতাংশের বেশি মৃত্যু ঘটছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই।