যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহল সেবনের কারণে ক্যানসারে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত ২ আগস্ট 'দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ – আমেরিকাস' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে দেশটিতে অ্যালকোহলজনিত ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১১,৪০০ জন, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩,১০০ জনেরও বেশি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার কম্প্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের গবেষকরা। তারা তিন দশকের 'গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ' ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকদের মতে, অ্যালকোহলের প্রভাব কেবল লিভার ক্যানসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কোলরেক্টাল, স্তন, খাদ্যনালী, অগ্ন্যাশয় এবং অন্যান্য ক্যানসারের হারও ক্রমাগত বাড়ছে।
সিলভেস্টার কম্প্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান ফেলো এবং গবেষণার সংশ্লিষ্ট লেখক ড. চিনময় জানি বলেন, ক্যানসারের বিভিন্ন ধরনের ওপর অ্যালকোহলের প্রভাবের বিস্তৃতি সবচেয়ে আশ্চর্যজনক। তিনি উল্লেখ করেন, লিভার ক্যানসারের সাথে অ্যালকোহলের সম্পর্ক সবার জানা থাকলেও, কোলরেক্টাল, খাদ্যনালী, স্তন, অগ্ন্যাশয় এবং প্রোস্টেট ক্যানসারে এর অবদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা কম।
গবেষণা অনুযায়ী, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে খুব বেশি অ্যালকোহল সেবনের প্রয়োজন নেই। দৈনিক মাত্র ৫ থেকে ১৫ গ্রাম অ্যালকোহল গ্রহণও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর মতে, একটি 'স্ট্যান্ডার্ড ড্রিংক'-এ সাধারণত ১৪ গ্রাম বা ০.৬ আউন্স বিশুদ্ধ অ্যালকোহল থাকে।
সিলভেস্টারের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগের প্রধান এবং গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. গিলবার্তো লোপেস বলেন, এই ফলাফলগুলো আবারও প্রমাণ করে যে জীবনযাত্রার অভ্যাস ক্যানসারের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, ডেটাবেস কাঠামোর পর্যবেক্ষণমূলক ডিজাইনের কারণে এই গবেষণায় কিছু তথ্যের অসম্পূর্ণতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
