আমেরিকান কান্ট্রি সঙ্গীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন ও তাঁর প্রয়াত স্বামী কার্ল ডিনের প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্য জীবন ছিল প্রচারের আলোর বাইরে, অত্যন্ত ব্যক্তিগত। গত ২৫ আগস্ট ৮০ বছর বয়সে ক্যান্সারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর মারা যান ডলি পার্টন। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৮২ বছর বয়সে তাঁর স্বামী কার্ল ডিন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই তারকা দম্পতির নিভৃত ও গভীর ভালোবাসার সম্পর্কের নানা অজানা দিক তুলে ধরেছেন ডলির বোন স্টেলা পার্টন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রচারিত ‘সিবিএস মর্নিংস’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক গেইল কিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টেলা পার্টন তাঁদের বৈবাহিক জীবনকে একটি ‘মিষ্টি ও ব্যক্তিগত প্রেমকাহিনী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। কার্ল ডিনের মৃত্যুর আগের শারীরিক অসুস্থতা ডলিকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল উল্লেখ করে স্টেলা বলেন, “আমি জানি তাঁদের সম্পর্কটি ছিল অনন্য, অত্যন্ত গভীর ও বিশ্বস্ত। মৃত্যুর আগে কার্লের শারীরিক অবস্থা দেখে ডলির মন ভেঙে গিয়েছিল।”
উপস্থাপক গেইল কিং জানতে চান, ডলি পার্টন কি তবে ‘ভাঙা মন’ বা শোকে মারা গেছেন? স্টেলা অবশ্য তা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে সেই কারণে তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন। আমার বোন দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং সবসময় কাজের মধ্যে ডুবে থেকেছেন। এমনকি তাঁর সঙ্গে আমার শেষ কথা হওয়ার সময়ও তিনি কাজ করছিলেন। কাজই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান।”
স্টেলা আরও জানান, কার্ল ডিন স্পটলাইট বা প্রচারের আলো এড়িয়ে চলতেই ভালোবাসতেন। তবে ডলির খ্যাতির পথে তিনি কখনো বাধা হননি। স্টেলা বলেন, “কার্ল ডিন ডলিকে এতটাই ভালোবাসতেন যে তিনি ডলিকে নিজের মতো করে বিকশিত হতে দিয়েছিলেন। যদিও কার্ল নিজে চাইতেন ডলি ঘরে থাকুক, চুলে পনিটেইল বেঁধে খালি পায়ে রান্নাঘরে রান্নাবান্না করুক আর ঘরোয়াভাবে সময় কাটাক।”
ডলি ও কার্লের এই প্রেমকাহিনীর সূচনা হয়েছিল ১৯৬৪ সালে ন্যাশভিলের ‘উইশি ওয়াশি লন্ড্রোম্যাট’-এ। তখন ১৮ বছর বয়সী ডলি সবেমাত্র ন্যাশভিলে পা রেখেছেন, আর ২১ বছর বয়সী কার্ল ডিন ছিলেন একজন পিচ ঢালাইয়ের কর্মী। প্রথম দেখাতেই ডলিকে দেখে কার্লের মনে হয়েছিল, “আমি এই মেয়েটিকেই বিয়ে করব।” ২০১৬ সালে নিজেদের বিয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে মানত নবায়নের সময় কার্ল সেই স্মৃতি স্মরণ করে বলেছিলেন, “সেদিন থেকেই আমার জীবনের শুরু হয়েছিল। গত ৫০টি বছর আমি পৃথিবীর কোনো কিছুর বিনিময়েই হাতছাড়া করতে চাই না।” ১৯৬৬ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ২০২৫ সালের ৩ মার্চ কার্লের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন। কার্লের মৃত্যুর সঠিক কারণ অবশ্য কখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বজুড়ে ডলি পার্টনের তুমুল জনপ্রিয়তা থাকলেও কার্ল ডিন নিজেকে সবসময় আড়ালে রাখতেন। ১৯৬৬ সালের একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর তিনি আর কখনো কোনো পাবলিক অনুষ্ঠানে যাননি। ডলি তাঁর ১৯৯৪ সালের আত্মজীবনী ‘ডলি: মাই লাইফ অ্যান্ড আদার আনফিনিশড বিজনেস’-এ লিখেছিলেন, কার্ল ডিন রিয়েল এস্টেট ব্যবসা এবং ন্যাশভিলের র্যাঞ্চ (খামারবাড়ি) দেখাশোনা করতেই পছন্দ করতেন। ২০২৪ সালে নক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডলি বলেছিলেন, “সে কখনোই এসবের অংশ হতে চায়নি, কোনো সাক্ষাৎকার দেয়নি। কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করত, ‘আপনি কি কার্ল ডিন? কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবেন?’ সে সরাসরি বলত, ‘না, আমি প্রশ্নের উত্তর দিই না’।”
২০২৫ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর এক আবেগঘন বিবৃতিতে ডলি পার্টন লিখেছিলেন, “কার্ল এবং আমি অনেকগুলো চমৎকার বছর একসঙ্গে কাটিয়েছি। আমাদের ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের ভালোবাসাকে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সে এখন ঈশ্বরের কোলে শান্তিতে আছে এবং আমি তা মেনে নিয়েছি। আমি তোমাকে সবসময় ভালোবাসব।”

