ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি হেলথ ওয়েট লস প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. সুজান ওলভার ১৩ বছর ধরে ওবেসিটি সেন্টার পরিচালনা করছেন। তিনি এমন এক সময়ে এই কেন্দ্রটি শুরু করেছিলেন যখন জিএলপি-১ (GLP-1) জাতীয় আধুনিক ওষুধের প্রচলন ছিল না। রোগীদের কাছ থেকে প্রায়ই তিনি একটি প্রশ্নের সম্মুখীন হন, তা হলো 'সেরা ডায়েট কোনটি?' তার মতে, সেরা ডায়েট হলো সেটিই যা একজন রোগী দীর্ঘমেয়াদে মেনে চলতে পারেন। তিনি বলেন, যদি কোনো ডায়েটকে মনে হয় যে এটি একটি কঠোর নিয়ম, তবে তা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বরং ব্যক্তিগত পছন্দ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে ছোটখাটো পরিবর্তন আনাই আসল কৌশল।
ব্যক্তিগতভাবে ডা. ওলভার কম কার্বোহাইড্রেটের ডায়েট অনুসরণ করেন। তিনি নিজেকে 'সুগার-অহলিক' বা চিনিপ্রেমী হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ওবেসিটি মেডিসিনে কাজ শুরু করার আগে এমন দিনও গেছে যখন তিনি সারাদিন শুধু চিনিযুক্ত খাবার খেয়েছেন এবং এতে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব খারাপ বোধ করতেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এই অভ্যাস ত্যাগ করা শুরুতে বেশ কঠিন।
চর্বিযুক্ত খাবারের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি বেশ স্পষ্ট। তিনি বলেন, 'আমি চর্বিকে ভয় পাই না।' তার মতে, ১৯৮০-এর দশকে চর্বিহীন ডায়েটের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা খাবারগুলোতে চর্বির বদলে চিনি বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এতে কি বিশ্বের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে? তার উত্তর, না, বরং এর ফলে স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে।
খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে ডা. ওলভার সবাইকে প্যাকেজজাত খাবারের মোড়কের পেছনের তথ্য পড়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, 'দয়া করে সেই বক্সটি উল্টে দেখুন।' তার মতে, আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে গোয়েন্দার মতো সতর্ক হতে হবে। কারণ কোম্পানিগুলো পণ্য বিক্রির জন্য অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করে, তাই প্যাকেটজাত খাবার সবসময় সেরা বিকল্প নাও হতে পারে।
প্রায় ৪০ বছর জেনারেল ইন্টারনাল মেডিসিনের প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তার হিসেবে কাজ করার পর, মধ্যবয়সে নিজের ওজন বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে ওবেসিটি মেডিসিনের দিকে ঝুঁকে পড়তে সাহায্য করে। তিনি বলেন, এতদিন রোগীদের যে পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন, তা নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে গিয়ে তিনি নতুন এক উপলব্ধি লাভ করেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি কেবল নিজের ওজনই কমাননি, বরং অনেক ডায়াবেটিস রোগীকে ইনসুলিন থেকে মুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছেন। এই সাফল্যের কারণেই তিনি পূর্ণকালীনভাবে ওবেসিটি মেডিসিনে মনোনিবেশ করেন।
ওজন নিয়ে সংগ্রামরত রোগীদের প্রতি তার বার্তা হলো, স্থূলতা কোনো ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়, বরং এটি একটি জৈবিক রোগ। তাই রোগীদের মনে করা উচিত নয় যে এর জন্য তারা নিজেরা দায়ী। যদি ওজন কমানোর লক্ষ্য বা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যক্তি ব্যর্থ হন, তবে ওবেসিটি মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।

