ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা বুধবার জানিয়েছে, গত মাসে দেশটিতে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৫,৭০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রেকর্ড ভঙ্গকারী এই তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, নতুন তথ্যে তা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
পাবলিক হেলথ ফ্রান্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত তাপপ্রবাহে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে সব মিলিয়ে ২১,৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটি আগের বছরগুলোর ডেটা ব্যবহার করে পরিসংখ্যানগত মডেলিংয়ের মাধ্যমে জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ না থাকলে এই অঞ্চলগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা হতো ১৫,৯১০ জন। এই দুই সংখ্যার পার্থক্য—অর্থাৎ ৫,৭৬৪টি মৃত্যুকে তাপপ্রবাহের কারণে হওয়া "অতিরিক্ত" মৃত্যু হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি এই মৃত্যুহার ২০০৩ সালের ভয়াবহ তাপপ্রবাহের পর সর্বোচ্চ। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের সেই ঐতিহাসিক তাপপ্রবাহের ঘটনায় ফ্রান্সে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
চলতি বছর ২৪ ও ২৫ জুন ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যেখানে জাতীয় গড় তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এছাড়া রাতেও রেকর্ড তাপমাত্রা অনুভূত হয়েছে এবং অনেক জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য সংস্থাটির তথ্যমতে, এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি ঘটেছে ২৫ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত—অর্থাৎ সবচেয়ে উত্তপ্ত তিন দিনের সময়কালে এবং এর ঠিক পরবর্তী সময়ে। এর মধ্যে প্যারিস অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে ১,৯৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা তাপপ্রবাহ ছাড়া প্রত্যাশিত মৃত্যুর তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
মৃত্যুর শিকার ২১,৬০০ জনেরও বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় অর্ধেক হাসপাতালে মারা গেছেন। এছাড়া এক-তৃতীয়াংশ বাড়িতে এবং বাকিরা মূলত বয়স্কদের জন্য পরিচালিত কেয়ার হোমগুলোতে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

