সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই বহিষ্কারের পর থেকেই রাজনৈতিক ও আইনজ্ঞ মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর একজন সংসদ সদস্যের পদ কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় কি না।
এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান বেশ স্পষ্ট। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। তিনি বলেন, বিষয়টি সংবিধান ও আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব উদ্যোগে কোনো সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা করার সুযোগ নেই। সংসদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত বা রেফারেন্স এলে কমিশন আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনিরের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলত্যাগ ও দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার বিষয়ে উল্লেখ থাকলেও, বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিষয়টি অস্পষ্ট। তবে তার মতে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবহিত করেছে।
আইনজ্ঞদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও ড. শাহজাহান সাজু মনে করেন, দল থেকে বহিষ্কারের কারণে সংসদ সদস্যপদ যাওয়ার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। তাদের ভাষ্যমতে, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বহিষ্কারের ফলে আসন শূন্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তাই দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিলেও তা সংসদ সদস্যপদ বাতিলের কারণ হতে পারে না।
তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট মামুন মাহবুব। তিনি মনে করেন, নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এবং দল তাকে বহিষ্কার করায় তার সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকার নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি দ্রুত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২২শে জুলাই আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

