পদত্যাগ করছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন, নতুন রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় বঙ্গভবন

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন। এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দার জন্য দুয়ার খুলছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হবে। তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে তার আগেও এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জোরালো হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। তবে অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার এতদিন কোনো পরিবর্তনের পথে হাঁটেনি। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ থেকে ১৮ই মে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই যোগাযোগকে অনেকে শপথ ভঙ্গের শামিল এবং ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কাজ করার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। এই তথ্য পাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয় এবং তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট আজ বা আগামীকালের মধ্যে স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার বিদেশ সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকলেও পদত্যাগ করলে তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেছেন। দেশের বাইশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে নতুন প্রেসিডেন্ট কে হবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের শীর্ষ কোনো নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অরাজনৈতিক বা আমলা কাউকে এই পদে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে নেতারা জানিয়েছেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে দলের পরীক্ষিত কোনো সিনিয়র নেতাকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. আব্দুল মঈন খান বা নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে এলেও, সাংবিধানিক জটিলতায় তার নিয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিএনপি নেতারা প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এর উদাহরণ টেনে জানিয়েছেন, অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে তা দলের জন্য সুফল বয়ে আনে না।