দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানায় একটি রাষ্ট্রীয় ফেরিডুবির ঘটনায় প্রায় ১০০ জনের প্রাণহানির ঘটনায় সরকার তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক বিপর্যয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিটিতে ১৭৯ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে ৭৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত ৫৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি ৫০ জনকে খুঁজতে ডুবুরিরা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
উত্তরের শহর চ্যারিটিতে স্বজনরা ভিড় করছেন প্রিয়জনদের খোঁজে। সামান্থা রামিন নামের এক নারী, যিনি তার তিন সন্তানের মধ্যে দুজনকে হারিয়েছেন, জানান যে তার ছোট ছেলের মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "আমি জানি সে ওই নৌকার ভেতরেই আছে। আমি চাই তারা আমার সন্তানকে খুঁজে বের করুক।"
৮৭ বছর বয়সী ফেরি 'এমভি বারিমা' শনিবার রাজধানী জর্জটাউন থেকে পোর্ট কাইটুমা যাওয়ার পথে আটলান্টিক মহাসাগরের এসিকুইবো উপকূলে ডুবে যায়। সরকারিভাবে ফেরিটির তালিকায় ১১৬ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু থাকলেও, কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭৯ জন।
ঘটনার পর থেকে উদ্ধারকাজে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেক জীবিত যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে, জাহাজটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ও ভারী ইঞ্জিন, গাড়ি এবং জ্বালানিসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। লিওন মারে নামক এক যাত্রী জানান, আগের অনেক ভ্রমণের তুলনায় এবার ফেরিটি অস্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত বোঝাই ছিল। এছাড়া যাত্রীদের ভাষ্যমতে, যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরেই ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়, কিন্তু ক্রুরা তা মেরামত করে যাত্রা চালিয়ে যান। পানি ঢুকে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও ক্রুরা তা গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। মেরিটাইম এজেন্সির পরিচালক স্টিফেন থমাস জানিয়েছেন, জাহাজটিতে মালামাল লোডিং এবং তত্ত্বাবধায়কদের ভূমিকা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী মার্ক ফিলিপস মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন যে, তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "যেখানে অবহেলা, অসদাচরণ বা অপরাধমূলক কাজের প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
ইতিমধ্যে পুলিশ ফেরির ক্যাপ্টেন এবং অন্তত একজন ক্রু সদস্যকে আটক করেছে, যারা গাঁজা সেবনের পরীক্ষায় পজিটিভ হয়েছেন। ৮৭ বছরের পুরনো ফেরি কেন এখনো চালু রাখা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সরকার জানিয়েছে, ভারত থেকে কেনা নতুন ১২.৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ফেরিটি চালু করার জন্য পোর্ট কাইটুমায় একটি বিশেষ জেটির কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এমভি বারিমা সর্বশেষ ২০২৪ সালে বড় ধরনের মেরামতের জন্য ড্রাই ডক করা হয়েছিল এবং অক্টোবরে ফের বাড়তি কাজ করার কথা ছিল।

