শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো প্রদাহ। যখন শরীরে কোনো ক্ষত বা সংক্রমণ হয়, তখন রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো দ্রুত সেখানে পৌঁছে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং টিস্যু মেরামত করে। তবে অসুস্থতা, স্থূলতা বা বয়সের কারণে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী নিম্নমাত্রার প্রদাহ তৈরি হতে পারে।
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের লাইফ সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান এবং 'ইমিউন হেলথ: এ মিথ-বাস্টিং গাইড'-এর লেখক অধ্যাপক ড্যানিয়েল এম ডেভিসের মতে, প্রদাহের একটি অন্যতম সূচক হলো রক্তে সাইটোকাইনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। সাইটোকাইন হলো এমন এক ধরনের অণু, যা ইমিউন কোষগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করে। শরীরে ১০০টিরও বেশি ধরনের সাইটোকাইন রয়েছে এবং এর মধ্যে কিছু সরাসরি মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে। অধ্যাপক ডেভিস বলেন, জ্বর হলে মানুষ যেমন শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করে, তেমনি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, কারণ কিছু সাইটোকাইন মানুষের অনুভূতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের রোগীদের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সাইটোকাইন-ব্লকিং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ ব্যবহারের ফলে তাদের মেজাজের উন্নতি হয়েছে। মস্তিষ্কের স্ক্যান থেকে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে, সাইটোকাইন ব্লক করার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে, যা সম্ভবত এই উন্নতির কারণ।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন যে, বিষণ্নতা বা উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার চিকিৎসায় এই জ্ঞান ব্যবহার করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই। অধ্যাপক ডেভিসের মতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে যোগসূত্র থাকার অনেক প্রমাণ পাওয়া গেলেও, বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তাই ঠিক কাদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোন অংশটি নিরাপদে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

