হলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতা মাইকেল ডগলাস দীর্ঘ ৪০ বছর পর এক বিস্ফোরক সত্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর আসন্ন স্মৃতিকথা ‘ওয়ান হেলুভা রাইড’-এ তিনি স্বীকার করেছেন যে, সহ-অভিনেত্রী ক্যাথলিন টার্নারের সাথে তাঁর একটি গোপন প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা তাঁরা দশকের পর দশক ধরে অস্বীকার করে আসছিলেন।
৮২ বছর বয়সী ‘ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন’ খ্যাত এই অভিনেতা জানান, ১৯৮৪ সালে মেক্সিকোতে ‘রোমান্সিং দ্য স্টোন’ নামক রোমান্টিক কমেডি সিনেমার শুটিংয়ের সময় তাঁদের এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পিপল ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর বইটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বইটিতে ডগলাস লিখেছেন, "ক্যাথলিন ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত, রসিক এবং চমৎকার কণ্ঠস্বরের এক আকর্ষণীয় নারী। প্রথম দেখাতেই আমি তাঁকে পছন্দ করি এবং আমরা একে অপরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করি।"
এর আগে এই দুই তারকা তাঁদের সম্পর্কের গুঞ্জন সবসময়ই অস্বীকার করে এসেছেন। এই সিনেমার পর তাঁরা ‘দ্য জুয়েল অব দ্য নাইল’, ‘দ্য ওয়ার অব দ্য রোজেস’ এবং ‘দ্য কমিনস্কি মেথড’-এর মতো চলচ্চিত্রে একসাথে কাজ করেছেন। ডগলাস জানান, মেক্সিকোতে শুটিংয়ের সময় তাঁর তৎকালীন স্ত্রী ডায়ান্দ্রা ডগলাসের সাথে তাঁর দাম্পত্য জীবন এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁরা দুজনেই তখন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন এবং তাঁদের ছেলে ক্যামেরন (যার বর্তমান বয়স ৪৬ বছর) তখন মাত্র ৫ বছরের শিশু ছিল। সেই সময় তাঁরা আলাদা থাকছিলেন এবং ডগলাস শুটিংয়ের জন্য মেক্সিকো যান।
পর্দায় তাঁদের রসায়ন এতটাই বাস্তবসম্মত ছিল যে দর্শকরা নিশ্চিত ছিলেন তাঁদের মধ্যে বাস্তব জীবনেও সম্পর্ক রয়েছে। ডগলাস তাঁর বইয়ে লিখেছেন, "আমরা সবসময় বলে এসেছি যে আমাদের মধ্যে চমৎকার রসায়ন ছিল, কিন্তু বাস্তবে কিছুই ঘটেনি। তবে সেটি ছিল একটি মিথ্যা।" তিনি আরও জানান, স্ত্রী ও সন্তানকে রক্ষা করতেই তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই সত্যটি গোপন রেখেছিলেন।
মেক্সিকোর জঙ্গলে ক্লান্তিকর শুটিং শেষে তাঁরা গোপনে দেখা করতেন। সিনেমার পরিচালক বব জেমেকিস বা সহ-অভিনেতা ড্যানি ডিভিটো কেউই এই সম্পর্কের কথা টের পাননি। তবে মেক্সিকোতে ডায়ান্দ্রা তাঁর ছেলেকে নিয়ে আসার পর এই সম্পর্কের জাদুকরী আবহ কেটে যায়। ডায়ান্দ্রার মনে সন্দেহ জাগে এবং তিনি ক্যাথলিনকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তাঁরা এখনও বিবাহিত। ফলে ক্যাথলিন নিজেকে সরিয়ে নেন। পরে সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ডগলাস ও ডায়ান্দ্রা আবার একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেও তাঁদের সম্পর্ক আর আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি।
পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে ‘দ্য জুয়েল অব দ্য নাইল’ সিনেমার মাধ্যমে এই জুটি আবার পেশাদারভাবে একত্রিত হন এবং চিত্রনাট্য সংশোধনের কাজ করতে গিয়ে তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যায়। ২০০০ সালে ডগলাস অভিনেত্রী ক্যাথরিন জেটা-জোন্সকে বিয়ে করেন। তবে ক্যাথলিনের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব বজায় ছিল। এই স্মৃতিকথায় সম্পর্ক প্রকাশের বিষয়ে ক্যাথলিনের সম্মতি ছিল। এক বিবৃতিতে ক্যাথলিন রসিকতা করে বলেন, "৪০ বছর আগের একটা বিষয় নিয়ে কতই না শোরগোল! আমি মাইকেলকে ভালোবাসি এবং বইটি পড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।"

