ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে ৮ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে তারা দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে। একই সাথে কেটেছে পাকিস্তানের টানা চার টেস্ট এবং বিদেশের মাটিতে টানা আট টেস্টে হারের খরা। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল পাকিস্তান।
চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৭৫ রান। তবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় তারা। পঞ্চম ওভারে ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন জেইডেন সিলস। সিলসের চমৎকার একটি ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমাম। এরপর আজান আওয়াইস এবং আবদুল্লাহ শফিক ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করেন। জোমেল ওয়ারিকানের ঘূর্ণি বোলিংয়ের সামনে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। শর্ট-লেগে আমির জাঙ্গু আওয়াইসের একটি কঠিন ক্যাচ হাতছাড়া করেন। পরের বলেই ওয়ারিকানের একটি দুর্দান্ত বল শফিকের অফ-স্টাম্পের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। আওয়াইসের আরেকটি শট জাঙ্গুর ঠিক সামনে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত শামার জোসেফের বলে ইনসাইড-এজ হয়ে বোল্ড হন আজান আওয়াইস। তখন জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। ক্রিজে আসা পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলটিই তার বুড়ো আঙুলে আঘাত হানে। মাঠেই তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অস্বস্তি সত্ত্বেও তিনি খেলা চালিয়ে যান এবং পরে আবারও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। এদিকে শফিক ওয়ারিকানকে স্লগ-সুইপে চার মেরে চাপ কিছুটা কমান, যা ছিল ৩০ বলের মধ্যে তার প্রথম বাউন্ডারি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৮ রান। বিরতি থেকে ফিরে বাবর আজম দুটি ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। শফিক ২৪ এবং বাবর ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে চতুর্থ দিনে ৬ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চোটের কারণে ব্র্যান্ডন কিং খেলতে না পারায় তারা মূলত ৭ উইকেট হারানো অবস্থায় ছিল। শেষ স্বীকৃত ব্যাটার জাস্টিন গ্রিভস এবং কেমার রোচ দলের ৬০ রানের লিড বাড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামেন। কিন্তু দিনের খেলা শুরুর ১২ বলের মাথায় কোনো রান যোগ করার আগেই বিদায় নেন কেমার রোচ। বড় শট খেলার চেষ্টায় বোল্ড হন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৬১ বল এবং প্রথম টেস্টে সব মিলিয়ে ৯২ বল খেলা রোচের এমন শট খেলা ছিল বেশ অপ্রত্যাশিত।
এরপর শামার জোসেফ দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন এবং আলী উসমানের ওভারে দুটি চার মারেন। তবে মোহাম্মদ আলী দ্রুতই জাস্টিন গ্রিভসকে বোল্ড করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আশা শেষ করে দেন। এরপর আলী উসমান শামার জোসেফকে রিজওয়ানের ক্যাচে পরিণত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস ১১৭ রানে গুটিয়ে দেন। এটি টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
এই ইনিংসে পাকিস্তানের দুই স্পিনার আলী উসমান ও সাজিদ খান ৪টি করে উইকেট নেন। ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে একই ইনিংসে পাকিস্তানের দুই বোলারের ৪টি করে উইকেট নেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। পাশাপাশি সফরকারী দলের স্পিন জুটি হিসেবে গত ৫০ বছরে এই প্রথম তারা এমন কীর্তি গড়লেন। এই হারের ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০০ সালের পর থেকে টেস্ট সিরিজ জয়ের দীর্ঘ অপেক্ষাই বাড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

