বুধবার রাতে ইউটিলিটা বোলে অনুষ্ঠিত দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টের ম্যাচে ওয়েলশ ফায়ারের জয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছেন ফিল সল্ট। কঠিন পিচে খেলার সময় তার অসাধারণ গেম-অ্যাওয়ারনেস বা খেলার পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ওয়েলশ ফায়ারের জয়ের জন্য যখন শেষ ৩৩ বলে ৪৪ রানের প্রয়োজন ছিল, তখন সল্ট ব্যক্তিগত ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। সে সময় তিনি খেয়াল করেন যে, সাউদার্ন ব্র্যাভের ফিল্ডাররা নিয়ম অনুযায়ী ৩০ গজের বৃত্তের ভেতরে নেই।
সল্ট লক্ষ্য করেন যে, বৃত্তের বাইরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছয়জন ফিল্ডার অবস্থান করছেন, যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচজন থাকার কথা। লুউক উডের একটি বলকে তিনি ‘ফ্রি হিট’ হিসেবে গণ্য করে জোফরা আর্চারের মাথার ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন। এরপর সল্ট আম্পায়ার জ্যাক শ্যান্ট্রির কাছে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং আম্পায়ার তা যাচাই করে ‘নো-বল’ ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর ফ্রি হিটে সল্ট এক রান নিলেও, উডের অতিরিক্ত বলটিতে চার মেরে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন। এর ফলে শেষ ৩০ বলে দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩৫ রান।
এই ভুলের পেছনে কারণ ছিল টম অ্যাবেল, যিনি ইনজুরি আক্রান্ত টমাস রিউয়ের পরিবর্তে ফিল্ডিংয়ে নেমেছিলেন। প্রাক্তন ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় সল্টের এই বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করে বলেন, “কারও মনোযোগ ছিল না, বৃত্তের ভেতরে মাত্র তিনজন ছিল। সল্ট বিষয়টি ধরতে পেরে আম্পায়ারকে জানান। ছোট ছোট বিষয়ই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।” ব্র্যাথওয়েট আরও যোগ করেন, টম অ্যাবেল সেখানে কিছুটা উদাসীন ছিলেন, যা ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৪৭ রানে অপরাজিত থেকে ওয়েলশ ফায়ারের জয় নিশ্চিত করেন সল্ট। ক্রিস জর্ডানকে ছক্কা হাঁকিয়ে দুই বল বাকি থাকতেই দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যাচ শেষে সল্ট বলেন, “পরিস্থিতি মোটেও সহজ ছিল না। টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। লো-স্কোরিং ম্যাচে সবসময় নিজেকে কিছুটা সময় দিতে হয়।” সল্টের এই সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধি ২০১৩-১৪ সালের অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ওয়ানডে এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ফাইনাল ডে-র মতো ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

