সুদানের আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর একটি ইউনিট তাদের সমস্ত সদস্য এবং সামরিক সরঞ্জামসহ সরকারি সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। শুক্রবার সুদানের সরকারি সংবাদ সংস্থা সুনা (SUNA) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে যে, আত্মসমর্পণকারী দলটি আরএসএফ-এর 'গ্রুপ ২৬'-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে কতজন সদস্য এতে জড়িত বা কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আত্মসমর্পণকারী এই দলটিকে গ্রহণ করেছেন আল-নুর আহমেদ আদম, যিনি আল-নুর আল-কুব্বা নামে পরিচিত। এ সময় তার সাথে সুদানি সেনাবাহিনী এবং জেনারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আল-নুর আল-কুব্বা আরএসএফ-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি আরএসএফ-এর সিনিয়র কমান্ডারের পদ থেকে পদত্যাগ করে সরকারি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল ফাশেরের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরে আরএসএফ দখল করে নেয়।
আল-নুর আল-কুব্বা জানান, সরকারি বাহিনী আত্মসমর্পণকারী এই দলকে গ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে আরএসএফ সদস্যদের সেনাবাহিনীতে যোগদানের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকজন আরএসএফ সদস্য সরকারি পক্ষে যোগ দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরএসএফ-এর সমালোচনা করে বলেন, বাহিনীটির কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য, কৌশল বা আদর্শ নেই। এছাড়া আরএসএফ-এর প্রতি বিদেশি সমর্থন যুদ্ধের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারবে না এবং তা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই ব্যবহৃত হচ্ছে।
আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের একজন, ক্যাপ্টেন ওসমান আল-নুর হাসাব খলিল জানান, তিনি উত্তর করদোফান রাজ্যের বারা শহর থেকে এসে তার দলের সাথে সরকারি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি আরএসএফ-এ কর্মরত তার সাবেক সহকর্মীদের যুদ্ধ ত্যাগ করে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। ওসমান বলেন, তাদের এই আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তের পেছনে যুদ্ধের 'জাতিগত ও আঞ্চলিক চরিত্র' এবং বাহিনীটির ভেতরের প্রান্তিকীকরণের বিষয়টি বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে আরএসএফ-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে গৃহযুদ্ধ চলছে। এই সংঘাত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে এবং বিশ্বজুড়ে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। সুদানের নিয়মিত সামরিক বাহিনী বা এসএএফ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান, আর আরএসএফ-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ হামদান দাগলো, যিনি 'হেমেদতি' নামে পরিচিত।
২০২৩ সালের এপ্রিলে খার্তুমসহ সারা দেশে দুই বাহিনীর মধ্যে লড়াই ছড়িয়ে পড়ে। আরএসএফ তাদের আরবান ওয়ারফেয়ার বা নগরযুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করে রাজধানীর বড় একটি অংশ এবং দারফুরের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়। অন্যদিকে সেনাবাহিনী বিমান হামলা ও কামানের ওপর নির্ভর করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ১৮ মাসের দীর্ঘ অবরোধের পর আরএসএফ দারফুরে সেনাবাহিনীর শক্ত ঘাঁটি আল ফাশের দখল করে নেয়। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবাধিকার সংস্থা আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে গণহত্যা, অনাহার এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলেছে।

