ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে ইন্টারনেট দুনিয়ায় তুমুল জনপ্রিয় বল্ড ঈগল ‘জ্যাকি’। রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করা এই ঈগলটির অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তার শরীরে ধীরে ধীরে সুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ওজাই র্যাপ্টর সেন্টারে (Ojai Raptor Center) সার্বক্ষণিক ভেটেরিনারি কেয়ারে রয়েছে জ্যাকি।
গত ১৭ জুলাই বিগ বিয়ার লেকের (Big Bear Lake) কাছে উড়তে অক্ষম অবস্থায় জ্যাকিকে উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, দুটি অল্পবয়সী বল্ড ঈগলের সঙ্গে লড়াইয়ের পর সে আর উড়তে পারছিল না। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, কেবল ওই লড়াইয়ের কারণেই নয়, বরং অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগের কারণেও জ্যাকি এতটা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওজাই র্যাপ্টর সেন্টার ৩১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আপডেটে জানায়, 'পেশেন্ট ২৬-৫১৯' (Patient 26-519) হিসেবে জ্যাকিকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞরা এই জটিল কেসটি নিয়ে কাজ করছেন।
জ্যাকির অসুস্থতার আসল কারণ জানতে চিকিৎসকেরা ব্যাপক পরীক্ষা-নিয়ন্ত্রণ চালিয়েছেন। ইতোমধ্যে সীসা বিষক্রিয়া (lead poisoning), ক্যানসার এবং হুক বা মেটালের মতো কোনো ধাতব বস্তুর উপস্থিতি পরীক্ষার মাধ্যমে নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ইঁদুর মারার বিষের (rodenticide) কারণে এমনটি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হলেও সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের বিশ্বাস, এটি তার মূল অসুস্থতার কারণ নয়। এর আগে জ্যাকিকে বাঁচানোর জন্য অন্য একটি ঈগলের শরীর থেকে রক্ত এনে রক্ত সঞ্চালন (blood transfusion) করা হয় এবং তাকে অক্সিজেন থেরাপিও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে জ্যাকি নিজেই খাবার খেতে পারছে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও চটপটে আচরণ করছে। ২০১৫ সাল থেকে বিগ বিয়ার ঈগল নেস্ট ক্যামেরার মাধ্যমে জ্যাকি এবং তার সঙ্গী 'শ্যাডো'র (Shadow) জীবনযাত্রা সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। লাখ লাখ দর্শক তাদের ডিম পাড়া, ছানা লালন-পালন এবং প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করার দৃশ্য লাইভস্ট্রিমে দেখে আসছেন। জ্যাকি অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে হাজার হাজার বার্তা পাঠাচ্ছেন।

