ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধালে প্রদেশে সরকারি বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি বাহিনীর মিডিয়া সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে চারজন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে সংঘর্ষে দুই কমান্ডারসহ ২৩ জন হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন এবং আরও সাতজনকে আটক করা হয়েছে।
২০২২ সালের এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ধালে প্রদেশে এটিই সবচেয়ে বড় এবং তীব্র সংঘাতের ঘটনা। সরকারি বাহিনীর মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে ওই এলাকায় বড় ধরনের সামরিক শক্তি মোতায়েন করা হয়েছে। ফাকের এবং আল-জুব ফ্রন্টে এই লড়াই সংগঠিত হয়েছে। তবে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ইয়েমেনের জাউফ, ধালে এবং তায়েজসহ বিভিন্ন প্রদেশে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে হুথিরা ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী সানা এবং অন্যান্য প্রদেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর মধ্যেই ইরান সমর্থিত হুথিরা তেহরানের সমর্থনে তাদের আক্রমণের পরিধি বাড়াচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে বাব আল-মানদাব প্রণালী বন্ধ করার জন্য ইরান হুথিদের নির্দেশ দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে হুথিরা সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বৃহস্পতিবার লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, 'এনসেলিয়া' নামের একটি ট্যাঙ্কারে আঘাতের ফলে আগুন ধরে গিয়েছিল, তবে ক্রুরা নিরাপদ আছেন। দ্বিতীয় ট্যাঙ্কারে হামলার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হুথিদের দাবি, তাদের এই সামরিক তৎপরতা মূলত তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দর ও বিমানবন্দরে বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সানা বিমানবন্দরে ইরানি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে চালানো হামলার জবাব। তাদের এই কার্যক্রম আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে এবং বাব আল-মানদাব প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

