আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নতুন করে কর্মী পাঠানো শুরু হতে পারে। প্রথম পর্যায়ে সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড—বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, “আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছি। এর মাধ্যমেই আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মালয়েশিয়ায় নতুন কর্মী পাঠানো শুরু হবে।”
তিনি জানান, মালয়েশিয়ার নির্ধারিত কয়েকটি মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকার ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কাছে পাঠিয়েছে। বর্তমান সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর আওতায় সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, আগের সরকারের সময় মাত্র ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেয়েছিল। পরে এ ব্যবস্থাটি ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে পরিচিতি পায়। কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সম্প্রতি ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালু এবং কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখার পাশাপাশি সাধারণ কর্মীরা যেন কম খরচে নিরাপদে মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
প্রথম ব্যাচের কর্মী পাঠাতে বোয়েসেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকারকেও অবহিত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে কার্যকর থাকা এমওইউর মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকা যাচাই-বাছাই করে নিজস্ব নীতি ও কাঠামোর ভিত্তিতে কতটি রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে, তা চূড়ান্ত করবে মালয়েশিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, “বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মালয়েশিয়ায় কাজ করতে যান। এ কারণে আমরা সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি।”
এদিকে পূর্ববর্তী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ—বায়রার সদস্য আলতাব খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, মালয়েশিয়া সরাসরি যেসব এজেন্সিকে নির্বাচন করবে, তাদের বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোও এবার সরকারি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পেতে পারে। এতে আরও বেশিসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি এবং কর্মীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আগস্টের শেষেই মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু, অগ্রাধিকার পাবেন যারা
