গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের ঐতিহাসিক প্যানাথেনাইক স্টেডিয়ামটি এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সাদা মার্বেল পাথরে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি প্রাচীন ও আধুনিক অলিম্পিকের এক অনন্য সাক্ষী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে জমে থাকা ধুলোবালি ও ময়লা পরিষ্কারের এই সূক্ষ্ম কাজটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করা হচ্ছে।
অ্যাক্রোপলিস তৈরিতে যে চকচকে মার্বেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল, এই স্টেডিয়ামটিও একই পাথর দিয়ে নির্মিত। ১৮৯৬ সালে প্রথম আধুনিক অলিম্পিক গেমসের জন্য পুনর্নির্মিত এই ভেন্যুটি অলিম্পিক শিখা হস্তান্তরের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের শিখাও এখান থেকেই পাঠানো হবে।
বর্তমানে এই স্টেডিয়ামের ৪৭টি খাড়া গ্যালারিতে সাদা ও নীল রঙের বিশেষ পোশাক পরিহিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাজ করছেন। মার্বেল পাথরের কোনো ক্ষতি না করে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ও কম চাপে পরিষ্কার পানি স্প্রে করা হচ্ছে এবং সাথে সাথে ভ্যাকুয়াম মেশিনের সাহায্যে ময়লা পানি শুষে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের সিনিয়র কনজারভেটর দিমিত্রি সেলেমিস বলেন, "আমাদের লক্ষ্য কেবল সবকিছুকে সাদা করা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে জমা হওয়া ময়লা এবং উপরিভাগের জৈব পদার্থের আস্তরণ সরিয়ে ফেলা। উদ্দেশ্য হলো পৃষ্ঠতলের ময়লাযুক্ত উপাদানগুলো পরিষ্কার করা, যাতে আমরা এই স্মৃতিস্তম্ভটি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।" তিনি আরও জানান, যেখানে সরাসরি সূর্যালোক কম পড়ে, সেখানে আগাছা ও ময়লা বেশি জমেছে।
স্টেডিয়ামের মার্বেল পাথর নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে চুইংগাম, হাই হিল জুতার দাগ এবং কোমল পানীয় অন্যতম। কালো হয়ে যাওয়া চুইংগামের দাগ তুলতে কর্মীরা বাষ্প বা স্টিম ব্যবহার করছেন। পরিষ্কার করার পর স্টেডিয়ামটি তার আসল রূপ ফিরে পাচ্ছে, যার কারণে গ্রিক ভাষায় একে "কালিমারমারো" বা "সুন্দর মার্বেল" বলা হয়।
হেলেনিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি ইসিদোরোস কুভেলোস বলেন, "আমরা একে কালিমারমারো বলি কারণ এটি এযাবৎকালের তৈরি হওয়া সবচেয়ে চমৎকার মার্বেল দিয়ে নির্মিত। আমরা এটি নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত। এত বছর ধরে যা কিছু জমেছে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন ছিল। এর মাধ্যমে প্যানাথেনাইক স্টেডিয়ামটি তার পূর্ণ দীপ্তি প্রকাশ করবে এবং অলিম্পিক আন্দোলনের জন্য আবারও মানবতার প্রধান স্মারক হয়ে উঠবে।"
একটি প্রাকৃতিক গিরিখাতে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি প্রাচীন গ্রিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হতো। এরপর শত শত বছর এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ১৮৯৬ সালে পুনরুজ্জীবনের পর এখানে ফ্যাশন শো, রক কনসার্ট, বক্সিং ম্যাচ, জাতীয় উৎসব এবং ১৯৬০-এর দশকে সামরিক একনায়কতন্ত্রের সময় জমকালো দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পুরো স্টেডিয়াম পরিষ্কারের এই কর্মযজ্ঞ ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলবে। তবে বর্তমানে স্টেডিয়ামের বাঁকানো বা অর্ধবৃত্তাকার অংশে দ্রুত কাজ চলছে। কারণ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর এখানে ডাকার যুব অলিম্পিকের মশাল হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেনেগালে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আসরটি হবে আফ্রিকার মাটিতে প্রথম কোনো অলিম্পিক প্রতিযোগিতা। হেলেনিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি জানান, ১০ সেপ্টেম্বরের এই অনুষ্ঠানে জিম্বাবুয়ের সাঁতারের স্বর্ণপদক জয়ী ও আইওসি সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি উপস্থিত থাকবেন।

