বিখ্যাত মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা সোফিয়া কোপোলা তার কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা 'লস্ট ইন ট্রান্সলেশন' (Lost in Translation) নির্মাণের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেছেন। সিনেমাটির ২০ বছরেরও বেশি সময় পর এসে টোকিওর রাস্তায় অনুমতি ছাড়া গেরিলা স্টাইলে শুটিং করার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং এর রহস্যময় শেষ দৃশ্য নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
২০০৩ সালের এই চলচ্চিত্রে অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসনের সাবওয়ের দৃশ্য এবং বিখ্যাত শিবুয়া ক্রসিংয়ের একটি ওভারহেড শট কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই গোপনে ধারণ করা হয়েছিল। কোপোলা জানান, সাবওয়ের দৃশ্যটি সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যেই ক্যামেরা নিয়ে ধারণ করতে হয়েছিল। আর শিবুয়া ক্রসিংয়ের দৃশ্যটির জন্য তারা স্থানীয় একটি স্টারবাকস কফি শপে ঢুকে পড়েছিলেন, কারণ সেখান থেকে দারুণ একটি ভিউ পাওয়া যাচ্ছিল। সেখানে শুটিংয়ের অনুমতি পাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। তাই গেরিলা কায়দায় তারা দৃশ্যটি 'চুরি' করেছিলেন। জাপান থেকে বিতাড়িত না হয়েই সিনেমাটির কাজ শেষ করতে পারায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
সিনেমার শেষ দৃশ্যে অভিনেতা বিল মারে অভিনীত বব চরিত্রটি শার্লটের (স্কারলেট জোহানসন) কানে কানে কী ফিসফিস করেছিলেন, তা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল দীর্ঘদিনের। এই রহস্যের জবাবে কোপোলা বলেন, বিল মারে সবসময় যেমনটি বলেন—"এটি কেবল তাদের দুজনের মধ্যকার ব্যাপার"—তিনিও বিষয়টি সেখানেই রেখে দিতে চান।
কোপোলা তার আরেকটি আলোচিত চলচ্চিত্র 'মারি আঁতোয়ানেত'-এর স্মৃতিচারণ করে এর ব্যতিক্রমী সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন। ঐতিহাসিক এই চলচ্চিত্রে পোস্ট-পাঙ্ক ও নিউ রোমান্টিক ঘরানার আধুনিক গান ব্যবহারের কারণে তৎকালীন সময়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। কোপোলা ব্যাখ্যা করেন, মারি আঁতোয়ানেত যখন ভার্সাইয়ে আসেন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ এবং ১৮ বছর বয়সে তিনি রানী হন। তাদের এই কিশোর বয়সকে ফুটিয়ে তুলতেই তিনি নিজের কৈশোরে শোনা 'বো ওয়াও ওয়াও' এবং 'অ্যাডাম অ্যান্ট'-এর মতো ব্যান্ডের গান ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি ভার্সাই প্রাসাদে সিনেমাটির বার্ষিকীতে ব্রিটিশ রক ব্যান্ড 'নিউ অর্ডার' যখন তাদের 'সেরেমনি' গানটি পরিবেশন করে, সেটি কোপোলার জীবনের অন্যতম সেরা সুখী স্মৃতি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
এই সিনেমার শুটিংয়ের সময় কোপোলার মা সেটে উপস্থিত থেকে প্রায় ৮০ ঘণ্টার নেপথ্য ভিডিও ধারণ করেছিলেন, যা সম্প্রতি তিনি খুঁজে পান। কোপোলা জানান, তার মা সবসময়ই সেটে এক শান্তিময় উপস্থিতি বজায় রাখতেন এবং পারিপার্শ্বিকতার সৌন্দর্য ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে তাকে অনুপ্রাণিত করতেন। মায়ের এই দৃষ্টিভঙ্গিই তার চলচ্চিত্র নির্মাণে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া তার প্রথম চলচ্চিত্র 'দ্য ভার্জিন সুইসাইডস'-এর অভিনয়ে থাকা পাঁচ কিশোরীর পর্দার পেছনের রসায়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। রিহার্সালের সময় রান্না করা এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে তাদের মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে চেলসি সোয়েন ছিলেন সবচেয়ে ব্যতিক্রমী।
২০০৩ সালে হোয়াইট স্ট্রাইপস ব্যান্ডের 'আই জাস্ট ডোন্ট নো হোয়াট টু ডু উইথ মাইসেলফ' গানের মিউজিক ভিডিওতে কেট মসের পোল ড্যান্সের আইডিয়াটি কোপোলার নিজেরই ছিল, যা রোলিং স্টোন সাময়িকী অন্যতম আবেদনময় মিউজিক ভিডিও হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এছাড়া মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৮৪ সালে টিম বার্টনের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'ফ্রাঙ্কেনউইনি'-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা স্মরণ করে কোপোলা বলেন, তখন বার্টন সবে পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং সেটে তার জন্য ছবি এঁকে দিতেন। বাবার সেটের বাইরে অন্য কারও সেটে কাজ করার সেই অভিজ্ঞতা তার সিনেমা জগতকে নতুনভাবে চিনিয়েছিল।

