৯/১১ হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায়ের করা ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মামলায় ওমার আল-বায়ুমি নামক এক ব্যক্তির নতুন কিছু ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। বিবিসি কর্তৃক প্রাপ্ত এই ভিডিওগুলো প্রমাণ করে যে, আল-বায়ুমির সাথে সৌদি সরকারের কর্মকর্তাদের গভীর সম্পর্ক ছিল এবং তিনি আল-কায়েদার ভবিষ্যতের এক শীর্ষ নেতার সাথেও যোগাযোগ রাখতেন। এই ভিডিওগুলো এতদিন প্রকাশ্যে আসেনি, যদিও ২০০১ সালের হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই এফবিআই এগুলো জব্দ করেছিল।
ভিডিওর একটি ক্লিপে আল-বায়ুমিকে আনোয়ার আল-আওলাকির সাথে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়, যিনি পরবর্তীতে আল-কায়েদা ইন দ্য অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আল-বায়ুমি এবং আওলাকি সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সাথে সান দিয়াগোর কাছে পেইন্টবল খেলছেন। আল-বায়ুমি ২৫ বছর ধরে নিজেকে চরমপন্থী বা সৌদি গোয়েন্দা হিসেবে অস্বীকার করে আসলেও, এই ভিডিওগুলো তার দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে।
মামলার দাবি অনুযায়ী, আল-বায়ুমি পেন্টাগন ও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আঘাতকারী দুই হাইজ্যাকার নাওয়াফ আল-হাজমি ও খালিদ আল-মিহদারের সহায়তায় জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের মেট্রোপলিটন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বাসা থেকে হাজার হাজার নথিপত্র, ফটোগ্রাফ, বিমানের টিকিট এবং অন্তত ৮০টি ভিডিও টেপ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি নোটবুকের পাতায় বিমানের ডায়াগ্রাম ও গাণিতিক হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, যা মামলার আইনজীবীদের মতে হামলার একটি বড় প্রমাণ।
এফবিআই এই ডায়াগ্রামটি বিশ্লেষণ করলেও তা ব্রিটিশ তদন্তকারী বা ৯/১১ কমিশনের কাছে শেয়ার করেনি। এমনকি এফবিআইয়ের সান দিয়াগো অফিসও এই প্রমাণগুলো পাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেও ব্যর্থ হয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, আল-বায়ুমির সাথে জড়িত সৌদি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রেও এফবিআইয়ের স্থানীয় অফিসগুলোকে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ২০০৩ সালে ৯/১১ কমিশন রিয়াদে আল-বায়ুমিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাকে 'সহজ-সরল' হিসেবে বর্ণনা করে অভিযোগ থেকে কার্যত অব্যাহতি দেয়। তবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ অনেক সদস্যই এই সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন না।
সৌদি আরব এবং আল-বায়ুমি বরাবরই এই হামলার সাথে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা পূর্বজ্ঞান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। এফবিআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে এই ভিডিওগুলো আদালতের পাবলিক ডকেটে স্থান পাওয়ায় বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

