যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ স্বীকার করেছেন যে তারা কখনো না কখনো কোনো পাব বা রেস্তোরাঁ থেকে কিছু না কিছু চুরি করেছেন। এটি কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হুজুগ, নাকি সাধারণ লোভ? সম্প্রতি ফ্রান্সে মিশেলিন-স্টার পাওয়া রেস্তোরাঁগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, গ্রাহকরা ছুরি, মোমবাতি এমনকি স্ক্রুসহ টয়লেট পেপার হোল্ডারও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছেন।
কানাডার কুইবেকের এক রেস্তোরাঁ মালিক গত জুলাই মাসে একই ধরনের চুরির অভিযোগ করেন। সেখানে পিকনিকের টেবিল, পেইন্টিং এবং থার্মোস্ট্যাট চুরির ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের রেস্তোরাঁ মালিকরাও নিশ্চিত করেছেন যে তাদের দেশেও এমনটি ঘটছে। ব্রিস্টলের 'উইলসনস' রেস্তোরাঁর জ্যান ওসলে বিবিসির 'ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান' অনুষ্ঠানে জানান, তাদের হার্ব শরবত পরিবেশন করার জন্য ব্যবহৃত মাদার-অফ-পার্লের (ঝিনুকের তৈরি) চামচগুলো চোরদের মূল লক্ষ্য। প্রতি কয়েক মাস পর পর তাকে নতুন করে ২৮টি চামচ কিনতে হয়।
রেস্তোরাঁ বা পাব থেকে জিনিসপত্র চুরির এই প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। এটিকে অনেকে নিজেদের অধিকার মনে করেন, কেউ স্মারক হিসেবে রাখতে চান, আবার কেউ মদ্যপ অবস্থায় সাহসিকতা দেখাতে গিয়ে এই কাজ করেন। নব্বইয়ের দশকে কনরান রেস্তোরাঁর অ্যাশট্রে পকেটে পোরা ছিল এক ধরনের পরিচিত অপরাধ। অথচ বর্তমান যুগে মানুষের মনোযোগ থাকার কথা 'অভিজ্ঞতা অর্জনে, জিনিসে নয়'। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে রেস্তোরাঁর খাবারের ছবি পোস্ট করে যেখানে আভিজাত্য প্রকাশ করা যায়, সেখানে টেবিল থেকে প্লেট বা চামচ চুরির কী প্রয়োজন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
ক্যাটারিং সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'নিসবেটস'-এর একটি জরিপ বলছে, যুক্তরাজ্যের ২৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ রেস্তোরাঁ বা পাব থেকে কোনো না কোনো জিনিস চুরি করেছেন। এমনকি এই লেখার লেখকও স্বীকার করেছেন যে, তার ড্রয়ারেও এমন একটি চামচ রয়েছে যা তিনি নিজে কেনেননি। এছাড়া ১৯৮০-এর দশকে বেলজিয়ামের ফাস্ট-ফুড চেইন 'কুইক' থেকে তার স্বামীর নিয়ে আসা ট্রে-তে এখনও তারা রাতের খাবার খান।
এই চুরি ঠেকাতে রেস্তোরাঁ মালিকরা নানা উপায় অবলম্বন করছেন। কেউ কেউ জিনিসপত্রের গায়ে দামের ট্যাগ ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ সন্দেহভাজন চামচ চোরদের সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ২০১২ সালে শেফ টম এইকেনস এক গ্রাহকের সাথে এই নিয়ে বেশ শোরগোল ফেলেছিলেন। আবার কেউ কেউ সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করেছেন; যেমন মেক্সিকান চেইন 'ওয়াহাকা' তাদের আকর্ষণীয় রঙিন চামচগুলো ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে গ্রাহকদের বিনামূল্যে ট্যাকো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল।
এই সমস্যার একটি সাধারণ সমাধান হলো খাবারের দাম বাড়িয়ে চুরির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া। তবে আরেকটি মজার উপায় হতে পারে রেস্তোরাঁর নিজস্ব ব্র্যান্ডের ম্যাচবক্স বা দিয়াশলাইয়ের বাক্স পুনরায় চালু করা। এটি কোনো চুরি ছাড়াই গ্রাহকদের কোথাও যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে গর্ব করার সুযোগ দেবে। তবে রেস্তোরাঁগুলোকে অবশ্যই গ্রাহকদের বলতে হবে যে এগুলো নেওয়া নিষেধ, কারণ আসল আনন্দ তো নিষিদ্ধ জিনিস নেওয়ার উত্তেজনার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

