যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ শুক্রবার ঘোষণা করেছে যে, টেক্সাসে বসবাসকারী আফগানিস্তানের এক স্থায়ী বাসিন্দাকে 'এলিয়েন টেররিস্ট' বা বিদেশি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে দেশ থেকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। এটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত 'এলিয়েন টেররিস্ট রিমুভাল কোর্ট' বা বিদেশি সন্ত্রাসী অপসারণ আদালতের ইতিহাসে প্রথম কোনো মামলা।
৪৭ বছর বয়সী নাজিরা হাজি জাদা এই বিশেষ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। এই আদালতটি মূলত এমন অ-নাগরিকদের নির্বাসনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে থাকা তথ্য জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে গোপন রাখা প্রয়োজন এবং সাধারণ আইনি প্রক্রিয়ায় যাদের অপসারণ সম্ভব নয়।
নাজিরা হাজি জাদার পক্ষে নিযুক্ত পাবলিক ডিফেন্ডাররা শুরুতে এই নির্বাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল, এই আদালতের গোপনীয় নিয়মগুলো আসামির যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার বা ডিউ প্রসেস লঙ্ঘন করে। এই বিশেষ আদালতের কার্যক্রমে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে থাকা গোপন প্রমাণাদি দেখার সুযোগ পান না এবং ফৌজদারি মামলার মতো প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ নেই।
নাজিরা হাজি জাদার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি। তবে তার ছেলে আবদুল্লাহ হাজি জাদা এবং জামাতা নাসির আহমদ তাওয়হেদি ২০২৪ সালের নির্বাচন দিবসে আইসিস-অনুপ্রাণিত গণহামলার ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিচার বিভাগের অভিযোগ, নাজিরা এই ষড়যন্ত্রে সহায়তা করেছিলেন এবং তার সন্তানদের আইসিসের আদর্শে উগ্রবাদী করে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তারা নাজিরার আইনজীবীদের কাছে তার বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণের সমর্থনে প্রায় আধা টেরাবাইট নথিপত্র হস্তান্তর করেছে। নাজিরা হাজি জাদা শেষ পর্যন্ত নিজেকে 'এলিয়েন টেররিস্ট' হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন এবং নির্বাসন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার অধিকার ত্যাগ করেছেন, যার ফলে তার পূর্বের আইনি মর্যাদা বাতিল হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের জয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, 'এই ঐতিহাসিক মামলাটি একজন বিদেশি সন্ত্রাসীকে তার নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠানোর পথ প্রশস্ত করেছে। যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা উচিত নয় এবং এই প্রথম মামলাটি প্রমাণ করে যে দেশ রক্ষায় বিচার বিভাগ প্রতিটি আইনি হাতিয়ার ব্যবহার করতে প্রস্তুত।'

