আয়ারল্যান্ড সফর: ‘একত্রিত আয়ারল্যান্ড’ চমৎকার বিষয় হবে বললেন ট্রাম্প

ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর (Taoiseach) সঙ্গে বৈঠককালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি একটি একত্রিত আয়ারল্যান্ড দেখতে অত্যন্ত পছন্দ করবেন। দুই দিনের আয়ারল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ডাবলিনে অবস্থান করছেন ট্রাম্প। সফরের শুরুতে তিনি আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ‘আরাস আন উচতারাইন’-এ দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ডাবলিনের আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে তিনি কাউন্টি ক্লেয়ারে ‘অ্যামজেন আইরিশ ওপেন’ গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে রওনা হন।

একত্রিত আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, এটি একসময় অবশ্যই ঘটবে এবং আইরিশ প্রধানমন্ত্রী মিহাল মার্টিনই একে এগিয়ে নেওয়ার জন্য "সঠিক ব্যক্তি"। ফিনিক্স পার্কের ফার্মলেই হাউসে মিহাল মার্টিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের একত্রীকরণকে একটি "চমৎকার বিষয়" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "যুক্তরাজ্যের অবশ্যই এ বিষয়ে কিছু বলার থাকবে, তবে আমি মনে করি এটি একটি দারুণ বিষয় হবে। আমার প্রশ্ন হলো, এটি খারাপ হবে কীভাবে?"

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সিন ফেইন দলের নেতা মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড বলেন, তিনি ট্রাম্পের মন্তব্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এখন আইরিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব হলো এই একত্রীকরণের জন্য পরিকল্পনা শুরু করা। তিনি বলেন, "আমাদের জাতীয় লক্ষ্য এখন একত্রীকরণ, যা একটি সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।" অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্প অন্য অনেকের চেয়ে ভালো করেই জানেন যে নির্বাচনের গুরুত্ব কতটা।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ উত্তর আয়ারল্যান্ডের জনগণই নির্ধারণ করবে; লন্ডন, ডাবলিন বা ওয়াশিংটনের কোনো মন্তব্যের ওপর তা নির্ভর করে না।" রবিনসন আরও বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক ইচ্ছার কারণেই উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ এবং ভবিষ্যতেও তারা যুক্তরাজ্যের সাথেই থাকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

সাবেক ডিইউপি এমপি এবং ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়ান পেসলি বলেন, "ভুল হলেও যে কারও ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।" তবে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক অ্যান্ড লেবার পার্টির (এসডিএলপি) নেতা ক্লেয়ার হানা ট্রাম্পের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ডাবলিনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এভাবে খোলাখুলি আইরিশ ঐক্য নিয়ে কথা বলাটা "বেশ অসাধারণ" একটি বিষয়। তিনি বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্পও যখন বুঝতে পেরেছেন যে আইরিশ ঐক্য কোনো দূরবর্তী বা তাত্ত্বিক বিষয় নয়, তখনই বোঝা যায় এই আলোচনা কতটা এগিয়েছে।" আলস্টার ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ইউইউপি) নেতা জন বারোজ বলেন, আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ বেলফাস্ট চুক্তির মাধ্যমে আইনে পরিণত হওয়া জনগণের সম্মতির নীতির ওপরই নির্ভর করবে।

ট্র্যাডিশনাল ইউনিয়নিস্ট ভয়েস (টিইউভি) নেতা জিম অ্যালিস্টার ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, "ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন যিনি তাঁর অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের কোনো ঘুঁটি নয়।" আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকেন্টি বলেন, "এত বড় একটি বিষয় কেবল আইরিশ জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই ঘটতে পারে এবং আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।"

পরবর্তীতে আয়ারল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদ্বূতের বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, একত্রিত আয়ারল্যান্ডের প্রশ্নের কোনো "সহজ উত্তর" নেই। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "এটি একটি চমৎকার প্রশ্ন ছিল এবং আমার উত্তরও চমৎকার ছিল। আপনারা আগামীকাল এটি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে পারবেন।" একই সাথে ট্রাম্প দাবি করেন, আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন "যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী"। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বলেন, "আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের বড় সম্পর্ক রয়েছে এবং বর্তমানে এটি সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে।" বৈঠকে বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

শনিবার সকালে ডাবলিন বিমানবন্দরে পৌঁছালে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান আয়ারল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী (Tánaiste) সাইমন হ্যারিস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেলেন ম্যাকেন্টি। এরপর তিনি প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনোলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। গাজা ইস্যুতে মার্কিন নীতির কড়া সমালোচক ও সোচ্চার কর্মী প্রেসিডেন্ট কনোলি বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছেন যে "যুদ্ধ এবং গণহত্যাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না।" ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কনোলিকে সমর্থন দেওয়া বামপন্থী দলগুলো ট্রাম্পের সঙ্গে গাজা ইস্যু নিয়ে কথা বলার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল।

কনোলি বলেন, "দুর্ভিক্ষ, উপনিবেশবাদ এবং সহিংসতার ইতিহাস পার করে শান্তির দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং পথ পাড়ি দেওয়া একটি দেশ হিসেবে আইরিশ জনগণ যেকোনো সংঘাত নিরসনে অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে, আমি বৈঠকে সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছি।"

ট্রাম্পের এই সফরকে কেন্দ্র করে আয়ারল্যান্ডে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় নিরাপত্তা অভিযান। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে আয়ারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হন ট্রাম্প। এর আগে ২০১৯ এবং ২০২৩ সালেও তিনি আয়ারল্যান্ড সফর করেছিলেন।

এদিকে ট্রাম্পের সফরের প্রতিবাদে ডাবলিনে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ডাবলিনের ও'কনেল স্ট্রিটের কাছে গার্ডেন অব রিমেমব্রেন্সে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একজন টনি, যিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকে "লজ্জাজনক ও অপমানজনক" বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর সঙ্গী আদ্রিয়ান বলেন, ট্রাম্প কেবল ধনকুবেরদের সেবা করেন, তাই তিনি তাঁকে পছন্দ করেন না। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মূল বিষয় ছিল ইসরায়েল-গাজা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম ফিলিস্তিনপন্থী দেশ হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে একটি কড়া বার্তা দিতে চান।

আঞ্জেলা জেনিংস এবং মারগট ফিলি নামের দুই বিক্ষোভকারী মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে "নিন্দনীয়" বলে উল্লেখ করেন। অ্যালিসন নামের আরেক বিক্ষোভকারী ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, "বাড়ি ফিরে যান, আমরা আপনাকে এখানে চাই না।" ডুনবেগে নিজের প্ল্যাকার্ড হাতে জেসি ফিলিপসসহ বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন, যা ট্রাম্পের হোটেল থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানে ট্রাম্প তাঁর ছেলে এরিক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে নিয়ে আইরিশ ওপেনে অংশ নেবেন। পুরো গ্রাম জুড়ে আইরিশ পুলিশের (গার্দা) ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তিন কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনএআই তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানডে দলে ফিরলেন আলি খান সিয়াটলের ফেডারেল প্রসিকিউটরকে বরখাস্তের নির্দেশ আটকে দিলেন বিচারক ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর নতুন নাটক ‘মায়ারে’ নিয়ে পর্দায় ফিরলেন আরশ-সুনেরাহ মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে অবসরে গ্লুচেস্টারশায়ারের পেসার ক্রেইগ মাইলস ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি কাপ: মুকেশের পাঁচ উইকেট সত্ত্বেও এগিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ইসরায়েলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের অভিযোগে তিন কর্মীকে ছাঁটাই করল ওপেনএআই তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ানডে দলে ফিরলেন আলি খান সিয়াটলের ফেডারেল প্রসিকিউটরকে বরখাস্তের নির্দেশ আটকে দিলেন বিচারক ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর নতুন নাটক ‘মায়ারে’ নিয়ে পর্দায় ফিরলেন আরশ-সুনেরাহ মানসিক স্বাস্থ্যের খাতিরে অবসরে গ্লুচেস্টারশায়ারের পেসার ক্রেইগ মাইলস ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানি কাপ: মুকেশের পাঁচ উইকেট সত্ত্বেও এগিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর ইসরায়েলগামী বিমানে হামলার ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত ট্রাম্পের