ফিলিপাইনে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা পুড়ে যাওয়া জাহাজটির ভেতর থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করেন। এখনো ৫৪ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার রাতে রাজধানী ম্যানিলা থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এটি পালাওয়ান প্রদেশের করোনার কাছে তুরদা গ্রামের প্রায় ৭.৪ কিলোমিটার (৪.৫ মাইল) দূরে অবস্থান করছিল। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। কোস্ট গার্ডের প্রকাশিত ছবিতে জাহাজটির ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত অবস্থায় দেখা গেছে; সেখানে ছাই, পোড়া ধাতব ধ্বংসাবশেষ এবং একটি গাড়ির অবশিষ্টাংশও রয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে মোট ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু। ৫৩ মিটার (১৭৪ ফুট) দীর্ঘ এই জাহাজটির যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল ৩০৬ জন এবং ক্রু ধারণক্ষমতা ২৭ জন। এ পর্যন্ত ৪৩ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, ম্যানিফেস্টে নাম থাকা দুইজন যাত্রী শেষ পর্যন্ত জাহাজে ওঠেননি। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড তাপ এবং ধোঁয়ার কারণে বৃহস্পতিবার জাহাজটির ভেতরে প্রবেশ করতে তাদের চরম বেগ পেতে হয়েছে, যা নিখোঁজদের সন্ধানে ধীরগতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজ ২০ বছর বয়সী সাইরিয়েল ডাকোর মা লিরা ডাকো তুরদার একটি উদ্ধার কেন্দ্রে মেয়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমার সন্তানের মরদেহ কীভাবে শনাক্ত করব জানি না। যদি সে ডুবে মারা যেত এবং আমরা তাকে খুঁজে পেতাম, তবে তাকে শেষ বিদায় জানানো যেত। কিন্তু এখন তাকে চেনা বা জড়িয়ে ধরার উপায় নেই।'
ফেরিটির যাত্রী আরনুলফো নোকি ভিলানুয়েভা নিউজ৫-এ সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে সেই ভয়াবহ রাতের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, 'আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমি তখন মাটিতে শুয়ে পড়ি, এতে আমার পিঠ পুড়ে যায়। কোনোমতে একটি জানালা দিয়ে লাফিয়ে জীবন বাঁচাই। লাইফ জ্যাকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু মানুষের ভিড়ে তা সম্ভব হয়নি, সবাই আতঙ্কিত ছিল।'
জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান 'আটিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিস ইনকর্পোরেটেড'-এর কর্মী র্যাচেল কনসারম্যান জানিয়েছেন, চিলির দুইজন পর্যটক এই ঘটনায় আহত হয়ে করোনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া অন্য কোনো বিদেশি যাত্রী সেখানে ছিলেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আরোহী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড ও মেরিটাইম কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
ফিলিপাইনের দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ফেরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে ঝড়, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিরাপত্তা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না করায় সেখানে প্রায়ই সমুদ্র দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগে ১৯৮৭ সালে 'দোনা পাজ' নামক একটি ফেরি জ্বালানি ট্যাংকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে গেলে ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

